মহিলাদের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ার্টার ফাইনালের ছাড়পত্র পেতে গেলে চীনের ইউহান জিয়ানদার বিরুদ্ধে ড্র করলেই চলত ইস্টবেঙ্গলের। দুর্দান্ত শুরু করেও শেষরক্ষা করতে পারল না ইস্টবেঙ্গলের প্রমীলাবাহিনী। গতবারের চ্যাম্পিয়ন প্রতিযোগিতার সেরা দল ইউহান জিয়ানদার কাছে হারতে হল ২–০ ব্যবধানে। ইউহানের কাছে হারলেও ইস্টবেঙ্গলের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের পিএফসি নাসাফের বিরুদ্ধে ড্র করলেই চলবে।
দাপটের সঙ্গেও অবশ্য প্রতিযোগিতা শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল। প্রথম ম্যাচেই ইরানের চ্যাম্পিয়ন দল বাম খাতুন এফসিকে ৩–১ ব্যবধানে হারিয়েছিল। লাল–হলুদ প্রমীলাবাহিনীর হয়ে ওই ম্যাচে গোল করেছিলেন শিলকি দেবী, ফাজিলা ইকওয়াপুট ও রেসটি নানজিরি। চীনের দলের বিরুদ্ধে এদিনও গোলের বেশ কয়েকটা সুযোগ পেয়েছিলেন ফাজিলা, নানজিরিরা। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি।
চীনের ইউহানে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ঘরের মাঠে দর্শক সমর্থন নিয়ে তেড়েফুঁড়ে আক্রমণ শুরু করেছিল ইউহান জিয়ানদা। গতবারের চ্যাম্পিয়ন দলচি ৮ মিনিটেই গোল তুলে নেয়। ফেইয়ের সেন্টার থেকে বল পেয়ে ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার পান্থোই চানুকে পরাস্ত করেন শুয়াং সং। প্রথমার্ধে দাপট থাকলেও গোলসংখ্যা আর বাড়াতে পারেনি ইউহান। ইস্টবেঙ্গলের সামনে সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি।
আরও পড়ুনঃ এ কী কাণ্ড মায়ের! ছেলেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে যোগদানের চেষ্টা! অবৈধ কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনে মামলা দায়ের
দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু রক্ষণের ভুলের জন্য চরম মূল্য দিতে হল লাল–হলুদ ব্রিগেডকে। একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে ইউহানের সেরা স্ট্রাইকার শুয়াংকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার পান্থোই চানু। রেফারি কিম ইউ জিয়ং পেনাল্টির নির্দেশ দেন। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি এশিয়ান গেমসের রুপোজয়ী চীন দলের সদস্য এবং চারবারের চীনের সেরা মহিলা ফুটবলারের পুরস্কার পাওয়া শুয়াং।
এই জয়ের ফলে ইউহান জিয়ানদা ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ লিগের শীর্ষে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, ২ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। গ্রুপ লিগে ইস্টবেঙ্গলের পরের ম্যাচ ২৩ নভেম্বর উজবেকিস্তানের পিএফসি নাসাফের বিরুদ্ধে। ওই ম্যাচে ড্র করলেই কোয়ার্টার ফাইনালের ছাড়পত্র পেয়ে যাবে ইস্টবেঙ্গল।