আইএফএ শিল্ড ফাইনালে টাইব্রেকারের আগে গোলকিপার দেবজিৎ মজুমদারকে নামিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন কোচ অস্কার ব্রুজো। একটা শটও বাঁচাতে পারেননি দেবজিৎ। সুপার কাপ ফাইনালে অবশ্য তিন কাঠির নীচে ছিলেন প্রবসুখন গিল। কয়েকবার তিনি টাইব্রেকার বাঁচানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করলেও ব্যর্থ। ব্যর্থ ইস্টবেঙ্গলও। আইএফএ শিল্ডের পর সুপার কাপ ফাইনালেও সেই টাইব্রেকারে হার। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে গোলশূন্য থাকার পর সাডেন ডেথে ইস্টবেঙ্গলকে ৬–৫ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন এফসি গোয়া।
একেই অস্কার ব্রুজো রিজার্ভ বেঞ্চে ছিলেন না। তার ওপর এফসি গোয়ার ঘরের মাঠে খেলা। সুতরাং লাল–হলুদ এর কাছে ম্যাচটা যে কঠিন হবে, সেটা জানাই ছিল। তা সত্ত্বেও প্রথমার্ধে রীতিমত দাপট দেখায় ইস্টবেঙ্গল। ১২ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল। মিগুয়েল ফেরেরা বক্সের মধ্যে সামনে একা গোলকিপারকে পেয়েও বাইরে মারেন। ২১ মিনিটে আবার সুযোগ। বিপিন সিংয়ের সেন্টার বক্সের মধ্যে পা ছোঁয়াতে পারেননি মহেশ। ৪৩ মিনিটে আবার বিপিনের সেন্টার বক্সের মধ্যে সুবিধাজনক জায়গায় পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে বল বাইরে মারেন মহেশ সিং। প্রথমার্ধে অবশ্য সেভাবে চোখে পড়েনি এফসি গোয়াকে। তবে তার মধ্যেও দু-একটা সুযোগ পেয়েছিলেন ব্রাইসন, সিভেরিও, বোরহারা। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি।
দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ অন্য ছবি। শুরু থেকেই ঝড় তুলেছিল এফসি গোয়া। ৪৭ মিনিটে আয়ুশ ছেত্রীর একটা দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২ মিনিট পর আবার সুযোগ। এবার নষ্ট দেয়ান দ্রাজিচের। ৬৩ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। হিরোশি ইবোসুকির হেড সরাসরি চলে যায় গোয়া গোলকিপারের হাতে। এই বলটিও সাজিয়ে দিয়েছিলেন বিপিন। শুধু এই ক্ষেত্রেই নয় জাপানি স্ট্রাইকার হিরোশি গোটা ম্যাচে চূড়ান্ত ব্যর্থ।
ম্যাচের ৭৪ মিনিটে অবশ্য বিতর্ক ছড়াল মাঠে। মহেশের পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা পিভি বিষ্ণু গোল লক্ষ্য করে শট নিয়েছিলেন। বল গোল লাইনের বাইরে ড্রপ পড়ে ভিতরে যাচ্ছিল। শূন্যে থাকা বল গোল লাইনের বাইরে থেকে হাত দিয়ে বার করে দেন এফসি গোয়া গোলকিপার ঋত্বিক তেওয়ারি। ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা গোলের আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু রেফারি হরিশ রাও আবেদনে সাড়া দেননি।
এই ধাক্কা সামলে উঠে এফসি গোয়া একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসে। ৭৭ মিনিটে ব্রাইসন ফার্নান্দেজের শট দারুণভাবে বাঁচান ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভসুখন গিল। পরের মিনিটেই সহজ সুযোগ নষ্ট করেন দ্রাজিচ। ৮১ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে হঠাৎ নেওয়া পল মোরেনোর শট ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভসুখন গিলের আঙুলে স্পর্শ করে ক্রশবারে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে। আক্রমণ প্রতি–আক্রমণে খেলা জমে উঠলেও নির্ধারিত সময়ে খেলা গোল শূন্য থাকে।
অতিরিক্ত সময়ের অবশ্য কোন দল সেভাবে ঝুঁকি নিতে চায়নি। তার মাঝেও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল গোয়ার সামনে। ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ফুটবল সিভেরিও প্রায় গোল করে ফেলেছিলেন। কিন্তু তাঁর প্রচেষ্টা অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। মিনিট কয়েক পরে প্রভসুখন আরও একটা নিশ্চিত গোল বাঁচান। অতিরিক্ত সময়েও গোল না হওয়ায় ম্যাচ ট্রাইবেকারে পৌঁছয়।
টাইব্রেকারের প্রথম শটে কেভিন সিভিলে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন। এফসি গোয়ার বোরহা শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপর ইস্টবেঙ্গল হয়ে ২–১ করেন সল ক্রেসপো। সিভেরিও ২–২। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে তৃতীয় শটে গোল করেন মিগুয়েল। চতুর্থ শট মহম্মদ রশিদ বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন। পঞ্চম শটে গোল করেন আনোয়ার আলি। টাইব্রেকারে গোয়ার হয়ে বাকি দুটি গোল করেন দ্রাজিচ ও মহম্মদ নেমিল এবং ডেভিড টিমোর। টাইব্রেকার ৪–৪ থাকার পর সাডেন ডেথে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন হামিদ আহদাদ। গোয়ার হয়ে সমতা ফেরান উদন্ত সিং। এরপর ইস্টবেঙ্গলের পিভি বিষ্ণু ক্রসবারের ওপর দিয়ে বল উড়িয়ে দেন। অন্যদিকে, সাহিল তাবরা গোল করতেই টানা দ্বিতীয়বার সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন হয় এফসি গোয়া।