রাজ্যে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মহমেডান ক্লাবেও পালাবদলেরন ইঙ্গিত। মইন বিন মকসুদের হাত ধরে ক্লাবে নতুনভাবে প্রাণসঞ্চারের স্বপ্ন দেখছেন সদস্য-সমর্থকরা। ইতিমধ্যেই সদস্য সমর্থকদের পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই মহমেডান ক্লাবকে কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন প্রয়াত সুলতান আমেদ, ইকবাল আমেদরা। তাঁদের পরবর্তীকালে মহমেডান ক্লাবকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করে আসছেন এসেছিলেন আমিনউদ্দিন ববি, কামারউদ্দিন, রাজু আমেদরা। তৃণমূল কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় থেকেও ক্লাবের জন্য কখনও স্পনসরের ব্যবস্থা করতে পারেননি। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে ইনভেস্টর জোগাড় করে দিয়েছিলেন। অথচ ফিরেও তাকাননি মহমেডান ক্লাবের দিকে। একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিয়েও প্রতিশ্রুতি রাখেননি মমতা ব্যানার্জি, ফিরহাদ হাকিমরা। অথচ মহমেডান ক্লাব কর্তাদের রাজনৈতিক ময়দানে দিনের পর দিন ব্যবহার করে গেছেন।
রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে মহমেডান ক্লাবে পরিবর্তনের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছেন সদস্য-সমর্থকরা। ক্লাবের একসময়ের কার্যকরী কমিটির সদস্য তথা ক্রিকেট সচিব মইন বিন মকসুদকে সামনে রেখে নতুন করে মহমেডান ক্লাবকে ঢেলে সাজাতে চাইছেন। ইতিমধ্যেই তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। সদস্য-সমর্থকরা চাইছেন শিক্ষিত, ভদ্র, মার্জিত, অর্থনৈতিক দিয়ে স্বাবলম্বী ব্যক্তিদের সামনে রেখে মহমেডান ক্লাবের প্রাণ সঞ্চার করতে। আর এই ব্যাপারে সদস্য-সমর্থকরা সামনে রাখতে চাইছেন আপাদমস্তক বাঙালি প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী এবং ক্লাব পরিচালনায় পারদর্শী মইন বিন মকসুদ, প্রাক্তন সচিব ওয়াসিম আক্রামকে।
অচলাবস্থায় দিকে এগিয়ে যাওয়া মহমেডান ক্লাবকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ইতিমধ্যেই রিসিভার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের জন্য অনেক আগেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন সদস্য-সমর্থকরা। রিসিভারের মাধ্যমে ক্লাবে স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সদস্য–সমর্থকরা মঈন বিন মকসুদের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং ক্লাবকে বাঁচাতে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
ক্লাবের এই চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতে মইন বিন মকসুদও দায়িত্ব নিতে রাজি। তিনি বলছিলেন, ‘শতাব্দী প্রাচীন মহমেডান ক্লাবের একটা আলাদা ঐতিহ্য রয়েছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও এর প্রচুর সমর্থক রয়েছেন। সেই ক্লাব এইভাবে অচলাবস্থার দিকে এগিয়ে যাবে, সেটা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। আমিও চাই ক্লাব সঠিক পথে এগিয়ে চলুক। কিছু কর্তা ক্লাবটিকে পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে ক্লাবকে ব্যবহার করেছে। সেটা কখনোই বাঞ্ছনীয় নয়।’
সদস্য–সমর্থকদের আবেদন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘বেশ কয়েকজন সদস্য–সমর্থক আমার কাছে এসেছিল। আমিও ক্লাবের ভাল চাই। তবে হ্যাঁ, যারা নিঃস্বার্থভাবে ক্লাবকে ভালবাসবে, ক্লাবের সেবায় এগিয়ে আসবে আমি তাদের নিয়েই কাজ করতে আগ্রহী। ক্রাউড ফান্ডিং করে ১০০ কোটি টাকার তোলার ক্ষমতা মহমেডান ক্লাবের রয়েছে।’