‘বৃথা আশা মরিতে মরিতেও মরে নাই।’ ভারতের অবস্থা অনেকটা সেরকমই। এশিয়ান কাপের মূলপর্বে ওঠার ভারতের কাছে বেশ কঠিন। তবুও সিঙ্গাপুরকে আটকে দিয়ে ক্ষীণ আশা বাঁচিয়ে রাখল খালিদ জামিলের দল। ১০ জনে খেলেও ১–১ ড্র করল সিঙ্গাপুরের সঙ্গে। ৩ ম্যাচে ভারতের পয়েন্ট ২। অন্যদিকে, ৩ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের পয়েন্ট ৫। ভারতের সামনে মূলপর্বে ওঠার সম্ভাবনা কার্যত নেই বললেই চলে।
সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে ভারতের ম্যাচটা ছিল মরণবাঁচনের। এএফসি এশিয়ান কাপের মূলপর্বের ওঠার সম্ভাবনা জোরালো করতে জেতা ছাড়া রাস্তা ছিল না। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সন্দেশ ঝিঙ্ঘানের লালকার্ড ভারতের স্বপ্নের কার্যত সলিলসমাধি ঘটিয়ে দেয়। পিছিয়ে পড়েও ভারতের মান বাঁচে ম্যাচের ৯০ মিনিটে রহিম আলির করা গোলে। যা সামান্য অক্সিজেন জুগিয়ে যায় ভারতকে।
আক্রমণাত্মক ফুটবল খালিদ জামিলের ধাতে নেই। ক্লাব ফুটবলে কোচিংয়ের সেই রক্ষণাত্মক মানসিকতা থেকে এখনও বেরিয়ে আসতে পারেননি। এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ওঠার লড়াইয়ে টিঁকে থাকতে জেতা ছাড়া রাস্তা নেই। এইরকম পরিস্থিতিতে তো বিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার কথা। অথচ সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে রক্ষণাত্মক খোলস থেকে বার হলেন না। লক্ষ্য ছিল প্রতিআক্রমণে সিঙ্গাপুর রক্ষণে হানা দেওয়া। তাঁর সেই পরিকল্পনা কাজে লাগল না।
ঘরের মাঠে সিঙ্গাপুর শুরু থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কিন্তু খালিদ জামিলের অতিরক্ষণাত্মক ছক ভাঙতে পারছিল না। প্রথমার্ধের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত সিঙ্গাপুর স্ট্রাইকারদের আটকে রেখেছিলেন সন্দেশ, আনোয়ার, রাহুল বেকেরা। কিন্তু ইনজুরি সময়ে শেষরক্ষা করতে পারেননি। মুহূর্তের ভুলে গোল হজন। হারুন হ্যারিসের লম্বা সেন্টার বক্সে ভেসে এলে ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন মহম্মদ উভেস। পেছন থেকে তাড়া করে এসে সিঙ্গাপুরের আনাউর সেই বল ছোট্ট টোকায় দেন ইসকান ফানডিকে। গুরপ্রীতের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠান ফানডি।
দ্বিতীয়ার্ধে সমস্যা বাড়ে ভারতের। ৪৭ মিনিটে ফানডির মুখে কনুই চালিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সন্দেশ। ১০ জনে হয়ে যায় ভারত। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হয় খালিদকে। সিঙ্গাপুর যখন ধরেই নিয়েছে জয় আসছে, তখনই ধাক্কা। ভুলের খেসারত দিতে হয় সিঙ্গাপুরকে। জর্ডন অহেতুক মাঝমাঠ থেকে ব্যাকপাস করেন গোলকিপার মাহবুদকে। সুনীল ছেত্রীর পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা রহিম আলি গতিতে ছুটে গিয়ে টোকা মেরে মাহবুদকে এড়িয়ে বল নিয়ে বেরিয়ে যান। তারপর ফাঁকা গোলে ঠেলে দেন। তাঁর গোলেই মান বাঁচে ভারতের। এবার সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ১৪ অক্টোবর ফিরতি ম্যাচ খেলবে ভারত।