রাফা পাহাড়ের গাজায় হামাসদের একটা বিশাল সুড়ঙ্গ আবিস্কার করল ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। সুড়ঙ্গটি ৭ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ, ২৫ মিটার গভীর। এই সুরঙ্গে ৮০টি ঘর রয়েছে। ইজরায়েলের অভিজাত ইয়াহালোম কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট এবং শায়েতেত ১৩ নৌ কমান্ডো ইউনিট সুড়ঙ্গটি আবিষ্কার করেছে। হামাস কমান্ডাররা অস্ত্র মজুদ, হামলার পরিকল্পনা এবং অবস্থান করার জন্য এই সুড়ঙ্গটি ব্যবহার করতেন।
২০১৪ সালে ইজরায়েল–হামাস যুদ্ধের সময় গাজায় হামাসদের এক অতর্কিত হামলায় লেফটেন্যান্ট হাদার গোল্ডিন নিহত হন। এরপর হামাসরা গোল্ডিনের মৃতদেহ আটকে রাখে। রাফা পাহাড়ের নীচে এই সুড়ঙ্গের ভেতরেই গোল্ডিনের মৃতদেহ সংরক্ষিত করে রাখা হয়েছিল। এই মাসের শুরুতে ইজরায়েল গোল্ডিনের দেহাবশেষ পেয়েছে। বৃহস্পতিবার এক্স–এ গোল্ডিনের মৃতদেহ যেখানে রাখা হয়েছিল সেই সুড়ঙ্গের একটা ভিডিও শেয়ার করেছে ইজরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী। আইডিএফ জানিয়েছে যে, সুড়ঙ্গটি ঘনবসতিপূর্ণ রাফা পাড়ার নীচে এবং জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার কম্পাউন্ড, মসজিদ, ক্লিনিক এবং কিন্ডারগার্টেনের নীচ দিয়ে দিয়ে গেছে।
আইডিএফ জানিয়েছে যে, সুড়ঙ্গটি ৭ কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ, ২৫ মিটার গভীর এবং এই সুরঙ্গে ৮০টি কক্ষ রয়েছে। ইজরায়েল সেনাবাহিনী হামাসের জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের কমান্ড পোস্ট হিসেবে ব্যবহৃত কক্ষগুলি খুঁজে পেয়েছে। যার মধ্যে মুহাম্মদ শাবানাও রয়েছেন, যিনি মে মাসে হামাস নেতা মোহাম্মদ সিনওয়ারের সঙ্গে নিহত হন। এই গোপন সুড়ঙ্গ থেকেই হামাসরা ইজরায়েল সেনাবিহীনর বিরুদ্ধে কার্যকলাপ পরিচালনা করত।
আরও পড়ুনঃ দিল্লিতে ছাত্র আত্মহত্যার ঘটনায় প্রধান শিক্ষকসহ আরও তিন শিক্ষক বরখাস্ত, সরকারের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন
ইজরায়েলের নিরাপত্তা দাবি করেছে, লেফটেন্যান্ট হাদার গোল্ডিনের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত এক হামাস সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এক্স–এ এক পোস্টে আইডিএফ লিখেছে, ‘লেফটেন্যান্ট হাদার গোল্ডিনের মৃত্যু সঙ্গে জড়িত হামাস সন্ত্রাসী মারওয়ান আল–হামাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আল–হামাস রাফাহের হোয়াইট–ক্রাউনড সুড়ঙ্গে লেফটেন্যান্ট গোল্ডিনের সমাধিস্থল সম্পর্কেও জানতেন বলে সন্দেহ করা হয়েছিল।’ পোস্টে আরও বলা হয়েছে, ‘২০২৫ সালের জুলাই মাসের অভিযানটি ছিল লেফটেন্যান্ট হাদার গোল্ডিনকে উদ্ধার করে ইজরায়েলে দাফনের জন্য ফিরিয়ে আনা। এর জন্য গত ৬ মাসে কয়েক ডজন গোপন অভিযান পরিচালনা করে হয়েছিল।’
এদিকে, বৃহস্পতিবার দক্ষিণ গাজা উপত্যকার খান ইউনিসে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৫ জন নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন। চিকিৎসকরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, খান ইউনিসের পূর্বে বানি সুহাইলা শহরের একটা বাড়িতে হামলায় এক শিশুকন্যাসহ তিনজন নিহত এবং আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন। নিকটবর্তী আবাসন শহরে আরেকটি হামলায় একজন ব্যক্তি নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলমান ক্রমবর্ধমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য হামাস এবং ইজরায়েল একে অপরকে অভিযুক্ত করার পর এই বিমান হামলা চালানো হয়।