মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার উত্তেজনা বাড়ছে। হরমুজ প্রণালীতে একটা পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরানও। হামলার প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আজ শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক টেলিগ্রাম বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘাঁটিগুলি ইজরায়েলে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে।
ইরানের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলার কিছুক্ষণ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে বলেন, ‘ইরান আবার হামলা করেছে। আসলে চারটি হামলা করেছে। এই হামলা আমি একদম পছন্দ করিনি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ড্রোন হামলার জবাব যুক্তরাষ্ট্র দেবে কিনা, তা আপনারা জানতে পারবেন।’ ট্রাম্পের এই সাংবাদিক সম্মেলনের পরপরই ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, সামরিক বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং উপকূলীয় রাডার সাইটগুলিতে হামলা চালিয়েছে।
ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী বৃহস্পতিবার জানিয়েছিল, ওমানের উপকূলের কাছে একটা কন্টেইনারবাহী জাহাজের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ইরান জাহাজগুলিকে ওই পথ ব্যবহার না করার হুমকি দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই এই ঘটনাটি ঘটে। ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, এই ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। এই হামলার ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের জন্য আলোচনা চালাচ্ছে। হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ধারাবাহিকভাবে এই অঞ্চল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করে আসছে।
আরও পড়ুনঃ ভোট ব্যাঙ্কের কথা ভেবে দায়িত্ব? ভিশন ২০২৮ প্রকল্পে কতটা সময় দিতে পারবেন অশোক দিন্দা? সিএবি–র অন্দরেই উঠছে প্রশ্ন
মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালীতে একটা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে তারা ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজে ওই জাহাজে হামলার জন্য তেহরান দায়ী। যুদ্ধবিরতি চলার মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, উপসাগরে একটা জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে তারা তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। আমরা সেই চুক্তি মেনে চলেছি। কিন্তু ওরা মানছে না। সহিংসতার জবাব সহিংসতার মাধ্যমেই দেওয়া হবে।’
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে। আরও দাবি করেছে, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী মোতায়েন থাকা বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ‘আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হলে আমাদের জবাব আরও ব্যাপক ও কঠোর হবে।’
এদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি ইজরায়েলে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এই কথা জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাহরিনে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন নৌঘাঁটি সংস্কারের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে কুয়েত ও সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি কমিয়ে আনা হতে পারে। সেগুলি ইজরায়েলে স্থানান্তর করা হবে।’