তিন বছর সাড়ে তিন মাস! অবশেষে বাইরের আলো দেখতে পেলেন পার্থ চ্যাটার্জি। মঙ্গলবার দুপুরে জেলমুক্তি রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর। এদিন দুপুরে বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাতপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন পার্থ চ্যাটার্জি। হাসপাতাল থেকে হুইলচেয়ারে বসে বাইরে বেরিয়ে আসার সময় চোখে জল। তাঁকে স্বাগত জানাতে হাসপাতালে হাজির ছিলেন তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সাক্ষ্যগ্রহণেরস্ত প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেছে। বিশেষ সিবিআই আদালত পার্থ চ্যাটার্জির জামিন সংক্রান্ত রিলিজ অর্ডার আগেই ছেড়ে দেয়। এরপর সেই অর্ডার পৌঁছয় আলিপুর পুলিশ আদালতে। সেখান থেকে আজ বাইপাসের ধারে বাইপাসের ধারে যে বেসরকারি হাসপাতালে জেলবন্দি পার্থ চ্যাটার্জি ভর্তি ছিলেন, সেখানে এসে পৌঁছয়। এরপর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। তিন বছর সাড়ে তিন মাস পর অবশেষে খোলা আকাশের মুখ দেখলেন একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই তৃণমূল নেতা।
পার্থ চ্যাটার্জি মুক্তি পাওয়ায় তাঁর এলাকা বেহালার তৃণমূল কর্মীদের একাংশের মধ্যে খুশির হাওয়া। এদিন তাঁকে নিতে পার্থ চ্যাটার্জির বেশকিছু অনুগামী হাসপাতালে হাজির ছিলেন। ‘জয় বাংলা’ গ্লোগান দিয়ে তারা পার্থকে গাড়িতে তোলে। বেহালার বিভিন্ন জায়গায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে পোস্টার পড়েছে। ব্যানারও লাগানো হয়েছে। সামনের বছর বিধানসভা নির্বাচনে বেহালা কেন্দ্র থেকে তারা আবার পার্থ চ্যাটার্জিকেই চায়। হাসপাতাল থেকে বার হওয়ার সময় পার্থ অবশ্য কিছু বলেননি।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালের ২২ জুলাই পার্থ চ্যাটার্জিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই সময় তাঁর দক্ষিণ কলকাতার নাকতলার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। দীর্ঘ জেরা শেষে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পার্থঘনিষ্ঠ অর্পিতা চ্যাটার্জির ফ্ল্যাট থেকেও উদ্ধার হয়েছিল বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনার গয়না। এই ঘটনাই পরবর্তীতে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তোলে। আগে একাধিকবার জামিনের আবেদন করেছিলেন পার্থ। প্রতিবারই আদালত তা খারিজ করে। পরে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। গত বছর ডিসেম্বর মাসে শীর্ষ আদালত জানায়, শর্তসাপেক্ষে পার্থকে জামিন দেওয়া যেতে পারে। তবে চার্জ গঠন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জবানবন্দি শেষ হলে তবেই মুক্তি মিলবে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সিবিআই যে আটজন সাক্ষীর তালিকা জমা দিয়েছিল, তাঁদের প্রত্যেকের সাক্ষ্যগ্রহণ আগেই শেষ হয়েছিল। সোমবার অষ্টম সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) এক আধিকারিক। তাঁর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্যে দিয়েই সম্পূর্ণ হয় আদালতের নির্ধারিত প্রক্রিয়া। এরপর বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক পার্থ চ্যাটার্জির রিলিজ অর্ডার জারি করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, জামিনের শর্ত হিসেবে ৯০ হাজার টাকার সিকিউরিটি ডিপোজিট দিয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন মহাসচিব। ২০২ দিন ধরে বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন পার্থ চ্যাটার্জি। রিলিজ অর্ডার হাসপাতালে পৌঁছনোর পর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হল।