বিয়ের পর থেকেই বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার ঘোষকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে নানা রকম কুৎসা ছড়ানো হচ্ছিল। ইদানিং সেই কুৎসা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। সমাজমাধ্যমে একের পর এক আপত্তিকর ও মানহানিকর পোস্ট আর সহ্য করতে পারছিলেন না দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার ঘোষ। শেষ পর্যন্ত তিনি আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিলেন। সোমবার বিধাননগর পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন শাখায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন রিঙ্কু। বিধাননগর কমিশনারেট তদন্ত শুরু করেছে।
রিঙ্কু মজুমদার ঘোষ বিধাননগর পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন শাখায় ২ পাতার লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, অনন্যা চট্টোপাধ্যায় ও ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী নামে দুটি ভুয়ো সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তাঁর ও দিলীপ ঘোষের বিবাহিত জীবন নিয়ে অসত্য, কুরুচিকর ও মানহানিকর মন্তব্য পোস্ট করা হচ্ছে। একের পর এক এই ধরনের পোস্টে তাঁদের সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
এর আগে তিনি এই ব্যাপারে আইনজীবীদের পরামর্শ নিয়েছিলেন। কুরুচিকর পোস্ট বন্ধ না হওয়ায় তিনি সাইবার অপরাধ দমন শাখায় অভিযোগ জানাতে বাধ্য হলেন বলে জানিয়েছেন রিঙ্কু ঘোষ। এই ব্যাপারে অবশ্য বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুনঃ বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে চা শ্রমিক তোষণ, বাগান মালিকদের কড়া হুমকি অসম সরকারের
বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন মহলে কটাক্ষ ও বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছে দিলীপ ও রিঙ্কুকে। আগে অবশ্য এইসব কটাক্ষকে গুরুত্ব দেননি তাঁরা। কিন্তু সম্প্রতি কুরুচিপূর্ণ পোস্ট বেড়ে যাওয়ায় পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে বাধ্য হলেন। কিছুদিন আগে দু’জনে একসঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন। তার পর থেকেই সমাজমাধ্যমে আক্রমণের মাত্রা বেড়ে গেছে।
বিধাননগর সাইবার থানার অপরাধ দমন শাখায় দায়ের করা অভিযোগপত্রে তথ্যপ্রযুক্তি আইন ছাড়াও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে মানহানি, জনসমক্ষে আপত্তিকর মন্তব্য করা এবং পরিচয় গোপন রেখে হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ। রিঙ্কুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার মাধ্যমে তাঁদের সম্মানহানি করার পাশাপাশি সামাজিক ভাবে হেনস্তা করারও চেষ্টা চলছে। পুলিশের কাছে অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রিঙ্কু মজুমদার ঘোষ।