যদি তারা শ্রমিকদের জমির অধিকার দেওয়ার বিরোধিতা করে, তাহলে অনুদান প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। চা বাগান মালিকদের এমনই হুমকি দিল অসম সরকার। কয়েকমাস পরেই অসম বিধানসভার নির্বাচন। নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই চা শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ অসম সরকারের। চা বাগান শ্রমিকদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে বিধানসভায় বিলও নিয়ে এসেছে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মন্ত্রীসভা। বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে চা শ্রমিক তোষণ অসম সরকারের।
২০২৫ সালের নভেম্বরে বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে রাজ্য সরকার ‘অসম ফিক্সেশন অফ সিলিং অন ল্যান্ড হোল্ডিং (সংশোধন) বিল, ২০২৫’ নামে একটা আইন পাশ করেছে। এই বিলের উদ্দেশ্য, চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে আবাসনের মালিকানার জন্য জমি বিতরণ করা। বিলটি রাজ্যপালের কাছ থেকে সম্মতি পেয়েছে। যদি জমি বিতরণের ক্ষেত্রে চা বাগান মালিকরা বিরোধিতা করে, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘শ্রমিকদের জমি অধিকার দেওয়ার ব্যাপারে কিছু চা বাগানের মালিকদের কাছ থেকে আমরা অসহযোগিতা পেয়েছি। এই ব্যাপারে মালিকদের কাছ থেকে সহযোগিতা না পেলে আমরা ১৫০ কোটি টাকার ইনসেনটিভ প্রত্যাহার করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্রিটিশরা যখন চা শ্রমিকদের অসমে নিয়ে এসেছিল, তখন তারা শ্রমিকদের দাস হিসেবে কাজ করাত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আইন তাদের মানবতা দিয়েছে, কিন্তু মর্যাদা দেয়নি। আজ সেই ভুল সংশোধন করা হচ্ছে।’
‘অসম ফিক্সেশন অফ সিলিং অন ল্যান্ড হোল্ডিং (সংশোধন) বিল, ২০২৫’ আইনে বলা হয়েছে যে, শ্রমিক লাইনে বসবাসকারী চা বাগানের শ্রমিকরা তাদের দখলকৃত জমির জন্য জমির অধিকার (পাট্টা) পাবেন। জমিটি ২০ বছরের জন্য বিক্রি করা যাবে না। তারপরে শুধুমাত্র অন্য চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের কাছে বিক্রি করা যাবে। এই আইনের আওতায় ৮২৫টি চা বাগান এবং ৩৩৩৪৮৬টি চা শ্রমিক পরিবার জুড়ে মোট ২১৮৫৫৩ বিঘা জমি উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ আকস্মিক বন্যা ও তুষারপাতে বিপর্যস্ত আফগানিস্তান, মৃত ১৭, আহত ১১, প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি
এরই মধ্যে চা বাগানের জমি বাগান শ্রমিকদের মধ্যে বন্টনের জন্য পরামর্শদাতা কমিটি কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছে। দেখা গেছে যে অসম বাগান শ্রম বিধিমালায় কোনও বাগান জমি ‘পাট্টা’ হিসাবে চিহ্নিত বা বিতরণ করার অনুমতি নেই। পরামর্শদাতা কমিটি আরও বলেছে যে, শ্রমিক আবাসন এবং লাইন এরিয়াগুলি প্ল্যান্টেশন লেবার অ্যাক্ট, ১৯৫১ এর অধীনে বাধ্যতামূলক বিধিবদ্ধ সুবিধার অংশ এবং সরকারের প্রস্তাবিত হিসাবে হস্তান্তরযোগ্য জমির মালিকানায় রূপান্তরিত করা যাবে না।
চা শ্রমিকদের সংগঠন মনে করে, রাজ্য সরকার ১৯৫৬ সালের ‘অসম ফিক্সেশন অফ সিলিং অন ল্যান্ড হোল্ডিংস অ্যাক্ট’–এর অধীনে চা বাগানগুলি থেকে বিশাল এলাকা অধিগ্রহণ করেছে এবং এই জমিগুলিকে শুধুমাত্র বিশেষ চা চাষ এবং আনুষঙ্গিক উদ্দেশ্যে (কারখানা, বাড়ি, হাসপাতাল, অন্যান্য) জমি ধরে রাখার অনুমতি দিয়েছে। এর বাইরে আর কিছুই নয়।
আগামী তিন মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অসম বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পদক্ষেপ বিজেপি সরকারের বিশাল রাজনৈতিক লাভের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। কারণ চা বাগানের শ্রমিক সম্প্রদায় রাজ্যের অন্যতম প্রধান ভোট ব্যাঙ্ক, যারা ২০১৬ সালের অসম নির্বাচনে বিজেপি–র প্রতি আনুগত্য সরিয়ে নিয়েছিল।