মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ভাবেই শেষ হয়েছে প্রথম দফার নির্বাচন। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনেও যে কোনও রকম আপস করতে রাজি নয়, বুঝিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার হিঙ্গলগঞ্জের ওসিকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে। শুক্রবার আরও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অভিষেক ব্যানার্জির লোকসভা এলাকা ডায়মন্ড হারবার পুলিশ কমিশনারেটের একজন আইপিএস–সহ ৫ জন পুলিশ কর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। এছাড়া ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ সুপার ইশানি পালকে সতর্ক করা হয়েছে।
গুরুতর অসদাচরণ ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য কমিশন এই পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে। এই ৫ পুলিশ কর্তা হলেন ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্দীপ গড়াই, ডায়মন্ড হারবার মহকুমার এসডিপিও সজল মণ্ডল, ডায়মন্ড হারবার থানার ভারপ্রাপ্ত আইসি মৌসুম চক্রবর্তী, ফলতা থানার ভারপ্রাপ্ত আইসি অজয় বাগ, এবং উষ্টি থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি শুভেচ্ছা বাগ।
২২ এপ্রিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের পাঠানো রিপোর্টের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদের অবিলম্বে বরখাস্ত করে করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজই এই ৫ পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন এই পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে। রাজ্যের মুখ্য সচিবকে দেওয়া এক নির্দেশনায় কমিশন জানিয়েছে যে, এই পুলিশ কর্তাদের আচরণ সুষ্ঠু নির্বাচনী নীতির পরিপন্থী বলে প্রমাণিত হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
এছাড়াও, অধস্তন কর্মকর্তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ সুপার ডঃ ইশানি পালকেও কড়া ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে। এই নির্দেশ কার্যকর করতে আজ সকাল ১১টার মধ্যে কমিশনকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এর আগে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ থানার ওসি সন্দীপ সরকারকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি স্থানীয় কিছু অসাধু চক্রের সঙ্গে আঁতাত করে ভোটের ময়দানে একটা বিশেষ দলকে সুযোগ করে দিচ্ছেন।