মহারাষ্ট্রের নাসিকে মন্দিরে যাওয়ার পথে ৮০০ ফুট গভীর খাদে গাড়ি পড়ে যাওয়া একই পরিবারের ৬ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। গাড়িটি নাসিকের ঘাট এলাকার বিখ্যাত সপ্তশ্রুঙ্গী মাতা মন্দিরের দিকে যাচ্ছিল। ভাওয়ারী জলপ্রপাতের কাছে অন্য একটা গাড়িতে ওভারটেক করার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।
একটা ইনোভা গাড়িতে করে সপ্তশ্রুঙ্গী মাতা মন্দিরের দিকে যাচ্ছিলের একই পরিবারের ৬ সদস্য। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে গাড়িটির গতি যথেষ্টই ছিল। ভাওয়ারী জলপ্রপাতের কাছে অন্য একটা গাড়িকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিলেন ইনোভা গাড়ির চালক। গাড়ির গতি বেশি থাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারেননি। ওই রাস্তাটা যথেষ্ট সরু এবং তীক্ষ্ণ বাঁক রয়েছে। ফলে গাড়িটি পাশেই ৮০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই সকলের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ, সপ্তশ্রুঙ্গী গাড়ি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দল এবং সপ্তশ্রুঙ্গী গড় গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। খাদটি গভীর ও খাড়া হওয়ায় উদ্ধার কাজে সমস্যা দেখা দেয়। গাড়িটি যে জায়গায় পড়েছিল সেখানে পৌঁছতে স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলিকে যথেষ্ট হিমশিম খেতে হয়। শেষপর্যন্ত নাসিক থেকে অতিরিক্ত উদ্ধারকারী দল ডাকা হয়। নাসিক থেকে আসা দলই মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ৬ জনই প্যাটেল পরিবারের সদস্য এবং মন্দির দর্শনের জন্য সপ্তশ্রুঙ্গী যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায়
আরও পড়ুনঃ ভারতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাস্তা! বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা তেলেঙ্গনা মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির
নিহতরা হলেন কীর্তি প্যাটেল (৫০), রাসিলা প্যাটেল (৫০), বিঠল প্যাটেল (৬৫), লতা প্যাটেল (৬০), পাচন প্যাটেল (৬০) এবং মণিবেন প্যাটেল (৬০)। পুলিশ জানিয়েছে, প্রত্যেকেই ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এক্স–এ শোক জ্ঞাপন করে লিখেছেন, ‘মহারাষ্ট্রের নাসিকে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। যারা তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন তাদের প্রতি আমার সমবেদনা।’
এদিকে, ঘাট রাস্তার অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, গাড়িটি যে বাঁকে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে, সেখানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বারবার অভিযোগ করার পরেও ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি মেরামত না করার জন্য তারা গণপূর্ত বিভাগকে দায়ী করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং দুর্ঘটনার জন্য দ্রুতগতি, রাস্তার অবস্থা নাকি চালকের ভুল দায়ী তা খতিয়ে দেখছে।