বিজেপি শাসিত রাজ্য মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে দূষিত জল পান করে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। প্রায় ১৪০০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ২০০ জন হাসপাতালে ভর্তি। সরকার মৃতদের পরিবারবর্গকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। অসুস্থদের চিকিৎসার পুরো খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব দূষণের উৎস খুঁজে বের করার আশ্বাস দিলেও, এই ঘটনা রাজনৈতিক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট সরকারকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
কিছুদিন ধরেই জল পান করে সাধারন মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল, ডায়েরিয়ার কারণে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এরপর জল পরীক্ষা করে দেখা যায় যে তা দূষিত। রাজ্যের প্রধান স্বাস্থ্যকর্তা মাধব প্রসাদ হাসানী জানান, ‘রোগীরা বলেছেন যে, দূষিত জল পান করার পর তারা বমি, ডায়রিয়া এবং জলশূন্যতায় ভুগছেন।’
একটা টয়লেটের নীচে থাকা প্রধান জলের লাইনে লিকেজ হওয়ার কারণে জল দূষণের ঘটনা ঘটেছে। কর্তারা জানিয়েছেন যে, ভাগীরথপুরায় মূল জল সরবরাহ পাইপলাইনে একটা লিকেজ পাওয়া গেছে। সেই লাইনের ওপর একটা শৌচাগার তৈরি করা হয়েছিল। এর ফলে সম্ভবত দূষিত জল পানীয় জলের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। স্থানীয় কাউন্সিলর কামাল বাঘেলা বলেন, ২৫ ডিসেম্বর স্থানীয় বাসিন্দারা যখন তাদের জলে অস্বাভাবিক গন্ধের অভিযোগ করেন, তখন বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। গত কয়েকদিন ধরে সমস্যা চললেও ২৫ ডিসেম্বর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
রাজ্যের প্রধান স্বাস্থ্যকর্তা মাধব প্রসাদ হাসানী জানিয়েছেন যে, প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগ ২৭০৩টি পরিবারের ১২০০০ লোকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে। এদিকে, ইন্দোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শিবম ভার্মা বলেছেন যে, চিকিৎসকরা এই প্রাদুর্ভাবের কারণে ৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও বলেছেন যে ২৭টি হাসপাতালে ১৪৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য আইএএস অফিসার নবজীবন পানওয়ারের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইন্দোরের জোনাল অফিসার শালিগ্রাম শীতল এবং সহকারী ইনচার্জ যোগেশ জোশীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সহকারী ইঞ্জিনিয়ার শুভম শ্রীবাস্তবকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ইন্দোরের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করে রোগীদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং এটিকে ‘জরুরি পরিস্থিতি’ বলে অভিহিত করেন। তিনি আরও বলেন যে, সরকার অসুস্থদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এই ঘটনার জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে যথাসম্ভব কঠোর ব্যবস্থা নেব।’ মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব নিহতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। এই সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিকালে সরকারকে ২ জানুয়ারির মধ্যে একটা স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতেও বলা হয়েছে।