অটোমেটিক মেসেজ সুইচিং সিস্টেমে কারিগরি ত্রুটি, দিল্লি বিমানবন্দরে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে বিমান।
শুক্রবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হল যাত্রীদের। কারিগরি ত্রুটির কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়। প্রায় ৮০০টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। বেশকিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়। দিল্লি বিমানবন্দরে এই কারিগরি ত্রুটির কারণে অন্য বিমানবন্দরেও প্রভাব পড়ে। ৩৬ ঘন্টা পর বিমান পরিষেবা ধীরে ধীরে কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে।
দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী অটোমেটিক মেসেজ সুইচিং সিস্টেমে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় শুক্রবার বিমান পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। দিল্লি বিমানবন্দরে প্রতিদিন ১৫০০টিরও বেশি ফ্লাইট ওঠানামা করে। কারিগরি ত্রুটির কারণে শুক্রবার ৮০০ টিরও বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। ২০টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। শনিবারও এর রেশ কাটেনি। এদিন ১২৯টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩টি আগমন এবং ৭৬টি প্রস্থান।
শনিবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল ফ্লাইট চলাচল নিয়ন্ত্রণকারী অটোমেটিক মেসেজ সুইচিং সিস্টেমের প্রযুক্তিগত সমস্যা ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। দিল্লি বিমানবন্দরে বিমান পরিষেবা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত কর্তৃপক্ষ যে কোনও অসুবিধা দূর করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। যাত্রীদের সর্বশেষ ফ্লাইট আপডেটের জন্য তাদের বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স তাদের যাত্রীদের উদ্দেশ্যে একটা পরামর্শ জারি করেছে। এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণে অটোমেটিক মেসেজ সুইচিং সিস্টেমে অস্থায়ী বিভ্রাটের সমস্যা সমাধান করা হয়েছে এবং দিল্লি বিমানবন্দর এবং উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দরগুলিতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক ঘন্টার মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে, কিছু যাত্রা এবং আগমনের সময় সামঞ্জস্য করা হবে।’
বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫০০টিরও বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ৮০০টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। গড়ে ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘন্টা পর্যন্ত ফ্লাইট ছাড়ার বিলম্ব হয়েছে। অন্যদিকে সীমিত পার্কিং বে এবং আকাশসীমায় যানজটের কারণে আগমনও বিলম্বিত হয়েছে। হাজার হাজার যাত্রী বিমান বন্দরে আটকে পড়েন। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বিমানবন্দরের লাউঞ্চে অপেক্ষা করছেন। কারণ ফ্লাইট বোর্ডে বারবার বিলম্ব দেখানো হয়েছে। অনেক যাত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন যে, ওড়ার আগে তাঁদের দীর্ঘ সময় ধরে বিমানের ভেতরে আটকে রাখা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সন্ধেয় এটিসি অফিসাররা যখন টার্মিনালে ফ্লাইট প্ল্যানের ডেটা হারিয়ে যাওয়ার কথা জানান, তখনই সমস্যাটি প্রথম নজরে আসে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই কন্ট্রোলাররা বুঝতে পারেন যে এএমএসএস ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে স্বয়ংক্রিয় মেসেজ পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। যেহেতু কন্ট্রোলাররা তাদের স্ক্রিনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফ্লাইট প্ল্যানের তথ্য পাচ্ছিলেন না, তাই এয়ারলাইন্সগুলি ম্যানুয়ালি সেগুলি প্রস্তুত করছিল। সিস্টেমটি শীঘ্রই অটো ট্র্যাক সিস্টেমে ডেটা পাঠানো বন্ধ করে দেয়। তবে, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, প্রযুক্তিগত সমস্যা বিরল হলেও, উড়ানের নিরাপত্তা কখনও আপস করা হয়নি। আকাশে ইতিমধ্যেই থাকা বিমানের ওপর কোনও প্রভাব পড়েনি।