কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে সার্কাসের জন্য বাংলা থেকে বিহারের সিওয়ানে হাতি স্থানান্তর। আর সেখানেই মৃত্যু হয়ে সুমন নামে একটা মেয়ে হাতির। নটরাজ সার্কাসের আদালত অবমাননা নিয়ে নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রাণী সুরক্ষা কর্মীরা বলছেন যে, কলকাতা হাইকোর্টের বারবার হেফাজত এবং পুনর্বাসনের নির্দেশ অমান্য করায় গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাকি দুটি হাতি উদ্ধারের জন্য জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মীরা।
নটরাজ সার্কাসের তিনটি হাতি ছিল। একটার নাম সুমন এবং বাকি দুটি হাতি হল ভোলা ও বাসন্তী। দীর্ঘদিন আগেই কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, সার্কাসে হাতি ব্যবহার করা যাবে না। ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান অ্যানিমেল প্রোটেকশন অর্গানাইজেশনসের মতানুসারে, কলকাতা হাইকোর্ট একাধিক আদেশ জারি করে নটরাজ সার্কাসকে হাতিগুলিকে পশ্চিমবঙ্গ বন বিভাগের হেফাজতে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। যা ১৯৭২ সালের বন্যপ্রাণী (সুরক্ষা) আইন এবং বন্দী হাতিদের নিয়ন্ত্রণকারী অন্যান্য প্রযোজ্য আইনি সুরক্ষা ব্যবস্থা অনুসারে প্রযোজ্য।
কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশ সত্ত্বেও, সুমন, ভোলা এবং বাসন্তীকে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে দেওয়া হয়নি। তিনটি হাতিকেই বিহারে একজন মাহুতের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সম্প্রতি সামাজিক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও সুমন নামে মেয়ে হাতিটিকে সিওয়ানে বাণিজ্যিক কার্যকলাপে ব্যবহার করা হচ্ছে। অসুস্থ অবস্থাতেই সুমন মারা যায়।
বিহারের মাহুতের কাছে হাতিগুলি স্থানান্তর এবং দখলদারীর বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে CAPE ফাউন্ডেশন। গত ৮ বছর ধরে মামলা চলছে। তার মধ্যেই সুমন নামে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে। এই ব্যাপারে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের সুপর্ণা গাঙ্গুলি বলেন, ‘সুমনের মৃত্যু গভীর বেদনাদায়ক ঘটনা এবং আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে বিলম্বের পরিণতির বিষয়টা তুলে ধরে। এটা কেবল একটা হাতির ঘটনা নয়। কর্তৃপক্ষ দ্রুত এবং সমন্বয়ের সঙ্গে পদক্ষেপ না নিলে বেঁচে থাকা দুটি হাতিও ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।’
বন্যপ্রাণী অধিকারকর্মীরা বলেছেন যে, সুমন নামে হাতিটিক মৃত্যু পশুচিকিৎসা তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং যত্নের মান এবং আদালত নির্দেশিত সুরক্ষা প্রয়োগ সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। তারা আরও জানিয়েছেন, হাইকোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশাবলী মেনে না চলার অভিযোগে আদালত অবমাননার মামলা বিচারাধীন। বন্দী হাতিগুলি দীর্ঘজীবী, সামাজিকভাবে জটিল প্রাণী যাদের বিশেষ পশুচিকিৎসা যত্ন এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের প্রয়োজন। আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে, দীর্ঘস্থায়ী মামলা এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা বাকি হাতিগুলিকে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ফেলেছে।
বন্যপ্রাণী সুরক্ষা সংস্থাগুলি পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারের কর্তৃপক্ষকে কলকাতা হাইকোর্টের বাধ্যতামূলক আদেশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। বাকি হাতি, ভোলা এবং বাসন্তীকে বিলম্ব না করে সুরক্ষিত করতে হবে এবং একটা উপযুক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করতে হবে যেখানে স্বাধীন পশুচিকিৎসা মূল্যায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণ পরিকল্পনা করা যেতে পারে। সংস্থাগুলি আরও বলেছে যে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া হওয়া পর্যন্ত হাতিগুলি নিয়ে যে কোনও ধরণের বাণিজ্যিক কার্যকলাপ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বন্যপ্রাণী অধিকারকর্মীরা সুমনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যে, সুমনের মতো পরিণতি যেন বাকি হাতিদের না হয়।