২০০ জন ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এদের মধ্যে রয়েছে অভিযুক্ত গ্যাংস্টার আনমোল বিষ্ণোই, পাঞ্জাবে মোস্ট ওয়ান্টেড দুই পলাতক এবং ১৯৭ জন অবৈধ অভিবাসী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছেড়ে আসা বিমানটি আজ দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা। জেলবন্দী গ্যাং লিডার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাই আনমোল বিষ্ণোই ভারতে বেশ কয়েকটি হাই–প্রোফাইল ফৌজদারি মামলার আসামী। এই মামলাগুলির মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকির হত্যা এবং ২০২৪ সালের এপ্রিলে অভিনেতা সলমান খানের বাসভবনের বাইরে গুলি চালানোর ঘটনা।
গোয়েন্দা সূত্র অনুসারে, আনমোল বিষ্ণোই ২০২২ সালের এপ্রিলে জাল পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভারত থেকে পালিয়ে যান। ওই বছর ২৯ মে তার বিরুদ্ধে গায়ক সিধু মুসেওয়ালাকে গুলি করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছিল। গোয়েন্দাদের ধারণা, আটক হওয়ার আগে আনমোল বিষ্ণোই জাল রাশিয়ান নথিপত্র নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যে চলাচল করছিলেন। তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন যে, তিনি এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশ থেকে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কার্যকলাপ পরিচালনা করছিলেন।
সূত্র আরও জানিয়েছে যে, গত বছর ক্যালিফোর্নিয়ায় আটক করার পর আনমোলকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছিল। তাকে ‘অ্যাঙ্কেল মনিটর’–এর অধীনে রাখা হয়েছিল। ‘অ্যাঙ্কেল মনিটর’ জিপিএস সিস্টেম ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যা সন্দেহভাজন, প্যারোলে এবং বিচারের তত্ত্বাবধানে থাকা আসামীদের গতিবিধি নজরে রাখতে ব্যবহার করা হয়। এই মনিটরগুলি সাধারণত জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত, গৃহবন্দী, প্যারোলে মুক্তিপ্রাপ্ত অথবা আদালতের নির্দেশিত নজরদারির অধীনে থাকা যে কারও জন্য ব্যবহৃত হয়। ডিভাইসটি সাধারণত একটা কালো স্ট্র্যাপ, যার একটা ছোট, তালাবদ্ধ ট্র্যাকিং বক্স থাকে, যা সহজে সরানো যায় না।
আরও পড়ুনঃ জঘন্য ফুটবল খালিদ জামিলের দলের, ২২ বছর পর বাংলাদেশের কাছে হার স্বীকার ভারতের
আনমোল বিষ্ণোইকে ভারতে প্রত্যার্পন করায় খুশি প্রয়াত বাবা সিদ্দিকির ছেলে এনসিপি নেতা এবং প্রাক্তন বিধায়ক জিশান সিদ্দিকি। তিনি বলেছেন, ‘মার্কিন সংস্থাগুলি ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগের একটা স্ট্যাটাস নথিভুক্ত করেছে, যা তাদের আনুষ্ঠানিক আপডেট পাওয়ার অধিকার দেয়। আনমোলকে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, সেই ব্যাপারে আমাদের অবহিত করা হয়েছে।’ এদেশে অবতরণের পরপরই আনমোলকে গ্রেফতার করার জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানিয়েছেন জিশান সিদ্দিকি। তিনি মহারাষ্ট্রের উপ–মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কাছে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পর পর্যালোচনার অনুরোধ করেছেন।
পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন যে, মহারাষ্ট্রে আনমোলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকায় মুম্বই পুলিশ এর আগে আনমোলের প্রত্যর্পণের জন্য দুটি পৃথক প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। আনমোলরা দেশে ফেরার পর কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নেবে কোন সংস্থা প্রথমে তাদের হেফাজতে নেবে। তবে এনআইএ–র সম্ভাবনা বেশি। কারণ এই জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা আন্তঃরাজ্য সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলির পেছনে ধাওয়া করত।