সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের। হরিয়ানার ফরিদাবাদে ৩০০ কেজি শক্তিশালী বিস্ফোরক আরডিএক্সসহ, একটা একে–৪৭ রাইফেল এবং প্রচুর পরিমাণে গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। কাশ্মীরের এক চিকিৎসককে গ্রেফতারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীরে বিশাল সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলছে। রবিবার উপত্যকা জুড়ে অভিযান চালিয়ে এক মহিলাসহ ৯ জনকে আটক করে নিরাপত্তাবাহিনী। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে ডাঃ আদিল আহমেদ রাঠের। কাশ্মীর উপত্যকায় তাঁর লকার থেকে একটা একে–৪৭ ও প্রচুর গোলাবারুদ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এরপর আদিলকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ফরিদাবাদে মজুত করা এই বিস্ফোরক ও অস্ত্রশস্ত্রের কথা জানতে পারে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। এই মুহূর্তে আদিল আহমেদ জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাঁকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক মজুত এবং অস্ত্রচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তদন্তে নেমে আরও একজন চিকিৎসকের জড়িত থাকার কথা জানতে পেরেছে পুলিশ। তাঁর নাম মুজামিল শাকিল। তিনি পুলওয়ামা জেলার কোয়েলের বাসিন্দা। শাকিল ফরিদাবাদে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক এবং অস্ত্র মজুত করতে সহায়তা করেছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। দুই চিকিৎসকই জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উপত্যকার সঙ্গে সম্পর্কিত সবচেয়ে বড় বিস্ফোরক আটকের ঘটনাগুলির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীরের বেশ কয়েকজন চিকিৎসককে তদন্তের আওতায় রেখেছে পুলিশ। কারণ নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সন্দেহ, সন্ত্রাসী সংগঠন জইশ–ই–মহম্মদ এবং গাজওয়াত–উল–হিন্দের সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র রয়েছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে যে, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বাইরে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার এবং মজুতের সঙ্গে যুক্ত থাকা নেটওয়ার্ক সনাক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে আরও অস্ত্র উদ্ধার এবং গ্রেফতারের সম্ভাবনা রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের ধারা ৭/২৫ এবং বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের ধারা ১৩, ২৮, ৩৮ এবং ৩৯ এর অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইতিমধ্যে, জম্মু ও কাশ্মীরে বিশাল সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলছে। রবিবার অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। সোমবারও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, উঁচু এলাকার সক্রিয় সন্ত্রাসীরা অত্যাধিক ঠান্ডার কারণে সমতল অঞ্চলে নিরাপদ আস্তানা খুঁজছে। তাই রামবান, কিশতওয়ার, ডোডা, কাঠুয়া, রিয়াসি, পুঞ্চ এবং রাজৌরি জেলার কয়েক ডজন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।