উপাচার্য শান্তিশ্রী ডি পণ্ডিতের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠল দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় গেটে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তাঁদের দাবি ইউজিসি–র নিয়ম বাস্তবায়ন করতে হবে এবম অবিলম্বে উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জেএনইউ ছাত্রসংসদের সভাপতি অদিতিসহ প্রচুর শিক্ষার্থীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। আটক হওয়া সব বিক্ষোভকারীকে আজ সকালে জামিন দিয়েছে পাতিয়ালা হাউস কোর্ট।
পাতিয়ালা হাউস কোর্টে জেএনইউ বিক্ষোভ মামলার শুনানির সময় দিল্লি পুলিশ সব অভিযুক্তের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের আবেদন করে। কিন্তু আদালত সব শিক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর করে। জেএনইউ মামলায় গ্রেফতার হওয়া ১৪ জন অভিযুক্তকে পাতিয়ালা হাউস আদালতে হাজির করা হয়। দিল্লি পুলিশ আদালতে বলে যে, এটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ছিল না, বরং বিক্ষোভকারীরা সহিংসতা ঘটিয়েছে। দিল্লি পুলিশের মতে, ছাত্ররা পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। যার ফলে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্তা আহত হন। গ্রেফতার হওয়া শিক্ষার্থীদেপর মধ্যে ছিলেন, নীতীশ কুমার (প্রাক্তন জেএনইউএসইউ সভাপতি), অদিতি মিশ্র (জেএনইউএসইউ সভাপতি), গোপিকা বাবু (জেএনইউএসইউ সহ-সভাপতি), দানিশ আলী (জেএনইউএসইউ যুগ্ম সম্পাদক)।
পুলিশ আদালতকে জানায় যে, অভিযুক্তরা এর আগেও বেশ কয়েকবার বিক্ষোভের সময় বলপ্রয়োগ করেছে এবং এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই চারটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পাতিয়ালা হাউস আদালতে জেএনইউ বিক্ষোভ মামলার শুনানির সময়, দিল্লি পুলিশ সমস্ত অভিযুক্তদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর আবেদন করে। দিল্লি পুলিশ আদালতকে বলেছে যে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার জন্য সমস্ত অভিযুক্তের বিচার বিভাগীয় হেফাজত প্রয়োজন।
অভিযুক্তদের আইনজীবী আদালতে বলেন, সব অভিযুক্ত তদন্তে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক এবং এই বিষয়ে আদালতে লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করতেও প্রস্তুত। শুনানির সময়, একজন ছাত্রী অভিযোগ করেন যে, পুলিশের পোশাক ছাড়াই ৪৫ জন ব্যক্তি, তাঁকে জোর করে ভিড় থেকে টেনে নিয়ে যায়, যার ফলে তার হাতে আঘাত লাগে এবং রক্ত জমাট বাঁধে। পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে যে, অনুমতি ছাড়াই প্রায় ৩০০ জনের একটি পদযাত্রা ইন্ডিয়া গেটের দিকে যাচ্ছিল। পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করে তাদের থামানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা পুলিশ অফিসারদের ধাক্কা দেয় এবং লাঞ্ছিত করে বলে অভিযোগ।
বেশ কয়েকটা দাবি–দাওয়া নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা জেএনইউ গেটে বিক্ষোভ শুরু করে। দিল্লি পুলিশ, সিআরপিএফ এবং আরএএফের বিপুল সংখ্যক বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ববিদ্যালয় গেটে হাজির হয়। দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারী ছাত্রছাত্রীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও তাঁরা গেটে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। পুলিশ জোরপূর্বক বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্তা আহত হন।
পুলিশ ৪০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীকে আটক করেন। এদের মধ্যে ছিলেন জেএনইউ ছাত্র সংসদের সভাপতি অদিতি। জেএনইউ অধ্যাপকরা পুলিশের কাছে শিক্ষার্থীদের মুক্তি দেওয়ার জন্য দাবি জানায়। তাঁরা বিক্ষোভকারী ছাত্রদের সমর্থনে জেএনইউ গেট থেকে বেরিয়ে আসেন। অধ্যাপকরা পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে দেখা করে আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবি জানান। শুক্রবার সকালে আটক শিক্ষার্থীদের পাতিয়ালা হাউস কোর্টে তোলা হয়। পাতিয়ালা হাউস কোর্ট ৪০ জন শিক্ষার্থীকেই জামিন দিয়েছে। চলমান বিক্ষোভের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা করার জন্য জেএনইউএসইউ–এর আজ একটা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠনের ছাত্র নেতারা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে, জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি (জেএনইউটিএ) দিল্লি পুলিশের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। খবর অনুসারে, পুলিশ জেএনইউ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে এবং দুই ছাত্র ইউনিয়নের কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রকে আটক করেছে। জেএনইউ গেটে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে। জেএনইউটিএ অভিযোগ করেছে যে, পুলিশ আইন লঙ্ঘন করেছে। কারণ পুরুষ অফিসাররা মহিলা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। জেএনইউটিএ বলছে যে শান্তিপূর্ণ মিছিল বন্ধ করা, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা এবং তাদের ওপর লাঠিচার্জ বা বলপ্রয়োগ করা দিল্লি পুলিশের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।