আর কেরল নয়, এবার থেকে ডাকতে হবে ‘কেরলম’ নামে। মঙ্গলবার থেকেই দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যের নাম বদলে গেল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কেরলের নাম পরিবর্তন করে ‘কেরলম’ রাখার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেরলের নাম বদলের প্রস্তাব কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা অনুমোদন দিলেও পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তনে সম্মতি না দেওয়ায় আবার কেন্দ্র সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০২৪ সালের ২৫ জুন কেরল বিধানসভা সর্বসম্মতিক্রমে দ্বিতীয়বারের মতো রাজ্যের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কেরলম’ রাখার প্রস্তাব পাস করে। কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৩ সালের আগস্টে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হওয়া পূর্ববর্তী প্রস্তাবটি মূল্যায়ন করার পরে এবং আরও স্পষ্টতা এবং সম্মতির জন্য কয়েকটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সুপারিশ করার পরে এই নাম পরিবর্তন ঘটল। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর নতুন কার্যালয় সেবা তীর্থে আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি সাউথ ব্লকে আগের বৈঠকের পর এটা ছিল সেবা তীর্থে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক।
কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাজ্যের নাম পরিবর্তন করে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত সব ভাষায় ‘কেরলম’ রাখার আহ্বান জানান। প্রস্তাবটি উত্থাপন করার সময় তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, রাজ্যের নাম মালায়ালাম ভাষায় ‘কেরলম’ বলা হয় এবং এটা রাজ্যের ইতিহাসে গভীরভাবে প্রোথিত। বিজয়ন জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের দিন থেকে একটা ঐক্যবদ্ধ মালায়ালামভাষী রাজ্য গঠনের দাবিও ব্যাখ্যা করেছিলেন। কেরল বিধানসভা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সংবিধানের ৩ নং অনুচ্ছেদের অধীনে এবং সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত সমস্ত ভাষায় ‘কেরলম’ হিসাবে সংশোধন করার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সাংবাদিক বৈঠকে এই কেরলের নাম পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেন৷ এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতি কেরল (অলটারেশন অফ নেম) বিল, ২০২৬ কেরল বিধানসভায় প্রস্তাব করবেন৷ সংবিধানের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় এই বিল নিয়ে প্রত্যেক সদস্য তাঁদের মতামত জানাবেন৷ কেরল বিধানসভার সদস্যদের মতামত গ্রহণের পর ভারত সরকার এই বিলটি সংসদে পেশ করবে।’
এদিকে, কেরলের নাম পরিবর্তন হয়ে গেলেও পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব এখনও অনুমোদন না করায় কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমদের ওয়াই–জেডে পড়ে থাকতে হয় কেন? রাজ্যের ছেলে–মেয়েরা পরীক্ষা দিতে গেলে পেছনের বেঞ্চে বসতে হয়। আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কোথাও গেলে সবার শেষে আমাকে সুযোগ দেওয়া হয়। বাংলার সংস্কৃতি, সভ্যতা, মননশক্তি, চিন্তা, দর্শন, সবকিছু ভেবেই রাজ্যের নাম বাংলা করতে চেয়েছিলাম। বিধানসভায় দু’তিন বার প্রস্তাব পাশ করেছি। কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদন দেয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘একবার যখন প্রস্তাব দিলাম, কেন্দ্র বলল নামটাকে বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি তিনটি ভাষায় এক শব্দ করে দিতে। আবার বিধানসভায় নতুন প্রস্তাব পাশ করালাম। তার পরেও সেই নাম পরিবর্তনে অনুমোদন দেয়নি কেন্দ্র। কেন জানি না। ওরা বাংলাবিরোধী বলেই আমার মনে হয়। ওরা বাংলার মনীষীদের অসম্মান করে। বাংলা কথাটা নির্বাচনের সময় ভোটের জন্য বলে। কিন্তু ওরা বাংলাবিরোধী। সেই জন্য বাংলা নামটা করল না।’