বৈষম্যের অভিযোগ তুলে আদলতের দ্বারস্থ অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানি সেনার গুলিতে নিহত এক জওয়ানের মা। জ্যোতিবাই শ্রীরাম নায়েক নামে ওই মহিলা দাবি করেছেন যে, ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্প অনুসারে তাঁকে পেনশনের সুযোগ–সুবিধা, কল্যাণমূলক অধিকার এবং দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অবিলম্বে ‘অগ্নিপথ প্রকল্প বাতিল করতে হবে। তাঁকে ‘অগ্নিবীর’ প্রকল্প অনুসারে সুযোগ সুবিধা দিতে হবে। এই নিয়ে তিনি বোম্বে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন।
২৩ বছর বয়সী এম মুরলী নায়েক ২০২২ সালের নভেম্বরে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছিলেন। এরপর তিনি নাসিকে প্রশিক্ষণ নেন। মুরলী নায়েক সেনাবাহিনীর নর্দান কমান্ডের ৮৫১ ব্যাটেলিয়ানের সদস্য ছিলেন। চলতি বছর মে মাসে জম্মু ও কাশ্মীরে অপারেশন সিঁদুরের সময় সীমান্তে গোলাগুলিতে তিনি নিহত হন। এরপর পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। ‘অগ্নিবীর’ স্বীকৃতি পান নিহত সেনা মুরলী নায়েক।
‘অগ্নিপথ’ পরিকল্পনা অনুসারে তাঁর মা জ্যোতিবাযই শ্রীরাম সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না। তিনি কোনো সুযোগ সুবিধা না পাওয়ায় আইনজীবী সন্দেশ মোড়ে, হেমন্ত ঘড়িগাঁওকার এবং জিতেন্দ্র গান্ধীর মাধ্যমে বোম্বে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেছেন। রিট পিটিশানে দাবি করা হয়েছে যে, ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্প যেহেতু মৃত ‘অগ্নিবীর’ সৈন্যদের পরিবারকে নিয়মিত সৈন্যদের দেওয়া পেনশন সুবিধা, কল্যাণমূলক অধিকার এবং দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করে তাই এটি অসংবিধানিক। এবং সংবিধানের ১৪ ১৫ ২১ ২৩ ও ৩৯ এ ধারা লঙ্ঘনকারী। তাই এটিকে বাতিল করা হোক।
আরও পড়ুনঃ কঠোর নিরাপত্তা ভেদ করে হোয়াইট হাউসের কাছে চলল গুলি, গুরুতর জখম ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য
এই আবেদনে কেন্দ্র, সেনাবাহিনী প্রধান, প্রাক্তন সৈনিক কল্যাণ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়োগের মহাপরিচালক, মন্ত্রিসভার সচিব এবং মহারাষ্ট্র রাজ্যকে যথাযথভাবে বিবেচনা করার এবং মরণোত্তর সুবিধা প্রদানের জন্য একটা প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত জারি করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।
আবেদনে কর্তব্যরত অবস্থায় মারা যাওয়া অগ্নিবীর সৈনিকদের সকল পরিবারের জন্য সমান মরনোত্তর সুবিধা প্রদানের জন্য আদালতের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে পারিবারিক পেনশন, গ্রাজুইটি, প্রাক্তন সৈনিকের মর্যাদা, স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা এবং নিয়মিত সৈনিকদের পরিবারের জন্য উপলব্ধ সুবিধার সমতুল্য অন্যান্য পরিষেবা। আবেদনে তুলে ধরা হয়েছে যে, অগ্নিবীররা একই রকম দায়িত্ব পালন করেন এবং একই রকম ঝুঁকির সম্মুখীন হন। তবুও তাদের পরিবার দীর্ঘমেয়াদি পেনশন এবং কল্যাণ থেকে বঞ্চিত। আবেদনে চাকরিরত অবস্থায় মারা যাওয়া পরিবারের জন্য পেনশন, প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং কল্যাণমূলক ব্যবস্থাসহ সমান মরণোত্তর সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।