সোমবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশে এক ট্রেন দুর্ঘটনায় একজন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। অন্ধ্রপ্রেদেশের ইয়েলমানচিলি এলাকায় টাটানগর–এর্নাকুলাম এক্সপ্রেসের দুটি কোচে আগুন লেগে যায়। বিশাখাপত্তনম থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার দূরে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, রাত ১টা ১০ মিনিট নাগাদ ট্রেনের দুটি কোচে আগুন লাগে।
অন্ধ্রপ্রদেশের আনাকাপল্লি জেলার ইয়েলমানচিলি রেলস্টেশনের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় আপ ১৮১৮৯ নম্বর টাটানগর–এর্নাকুলাম সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসে হঠাৎ করেই আগুন লেগে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনটি স্টেশনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। দুটি কোচ ধোঁয়ায় ভরে যায়। যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁরা প্ল্যাটফর্মে নেমে আসেন। দক্ষিণ–মধ্য রেলওয়ের কর্তারা জানিয়েছেন, দুটি কোচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোচ নম্বর বি–১ ও এম–২ আগুনে পুড়ে যায় এবং ব্যাপক ক্ষতি হয়। ট্রেনের কর্মীরা প্রথমে আগুনের সূত্রপাত লক্ষ্য করেন। এরপর তাঁরা দ্রুত অ্যালার্ম বাজিয়ে যাত্রীদের সতর্ক করে দেন এবং অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করেন।
আগুন লাগার পরপরই ট্রেনটি থামিয়ে দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি পরিষেবাগুলিকে খবর দেন। জরুরি প্রতিক্রিয়া এবং অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম সতর্কতার পরপরই দমকলবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কয়েকটি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। ঘটনাস্থলে থাকা রেলকর্তা জানিয়েছেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে আগুন অন্যান্য কোচে ছড়িয়ে পড়েনি। আগুন নেভানোর কাজ চলার সময় রেল কর্মীরা যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়।
রেল কর্তারা জানিয়েছেন যে আগুন লাগার সময় ক্ষতিগ্রস্ত বি ১ এবং এম ২ কোচ দুটিতে যথাক্রমে ৮২ এবং ৭৬ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর বি ১ কোচ থেকে চন্দ্রশেখর সুন্দরম নামে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর, ক্ষতিগ্রস্ত দুটি কোচ ট্রেন থেকে আলাদা করে ফেলা হয়। বাকি ট্রেনটি এর্নাকুলামের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। রেল প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত কোচ থেকে যাত্রীদের তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করেছে। পুলিশ জানিয়েছে যে আগুন লাগার কারণ তদন্তের জন্য দুটি ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
ঘটনার পরপরই রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। কী কারণে ওই কোচ দুটিতে আগুন লেগেছিল, তা খতিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন ঊর্ধ্বতন কর্তা বলেন, ‘আগুনের তীব্রতা ছিল ভয়াবহ। কিন্তু রেল কর্মীদের তৎপরতায় খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগুন লাগার সঠিক কারণ এবং কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য তদন্ত চলছে।’ রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার পর আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।