দুই দেশের মধ্যে মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে কথা বললেন ভারতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার দুজনের মধ্যে ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়। দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য যৌথ প্রচেষ্টায় গতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও কথা বলেছেন মোদী ও ট্রাম্প।
দিল্লিতে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধিদের আলোচনা শুরু হওয়ার দিনেই নরেন্দ্র মোদী ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ফোনে হয়। আসন্ন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জল্পনা–কল্পনা তুঙ্গে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফোনে কথা বলেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই নেতা ভারত–মার্কিন অংশীদারিত্বের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন এবং বাণিজ্য, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
উভয় নেতাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। বিবৃতিতে বিশেষভাবে বাণিজ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, নরেন্দ্র মোদী ও ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য যৌথ প্রচেষ্টায় গতি বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং ট্রাম্প উভয়ই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অভিন্ন স্বার্থকে এগিয়ে নিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, ‘দুই নেতা গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং ভারত–মার্কিন COMPACT (সামরিক অংশীদারিত্ব, ত্বরান্বিত বাণিজ্য ও প্রযুক্তির জন্য অনুঘটক সুযোগ) বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা অন্যান্য অগ্রাধিকার বিষয়গুলিতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও মতবিনিময় করেছেন।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এক্স–এ ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলার ব্যাপারে পোস্ট করেছেন। কথোপকথনকে ‘উষ্ণ এবং আকর্ষণীয়’ বলে অভিহিত করেছেন। মোদী লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে উষ্ণ এবং আকর্ষণীয় আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছি। ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।’
আরও পড়ুনঃ মায়ানমারে সামরিক বাহিনী জান্তার বিমান হামলায় হাসপাতাল ধ্বংস, চিকিৎসকসহ ৩৪ জন নিহত, আহত ৮০
দুই নেতা বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উন্নয়নের বিষয়ে মতামত বিনিময় করেছেন। অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষার জন্য একসাথে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য যোগাযোগ রাখতেও সম্মত হয়েছেন।
ডেপুটি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রিক সুইৎজারের নেতৃত্বে একটা প্রতিনিধি দল বুধবার ভারতের প্রধান আলোচক এবং বাণিজ্য বিভাগের যুগ্ম সচিব দর্পণ জৈনের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছে। বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল আলোচনার তত্ত্বাবধান করছেন। এই বছর দুই দেশই একটা কাঠামোগত বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ চূড়ান্ত করার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তাই এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্য উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এটি এসেছে।
জুলাই মাসে রাশিয়ান তেল কেনার জন্য দিল্লির ২৫% জরিমানা, পাশাপাশি ২৫% বাড়তি শুল্ক আরোপের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি দেখা দিয়েছে। ভারত বারবার শুল্ক আরোপকে অন্যায্য বলে অভিহিত করেছে এবং বলেছে যে এর পেছনের যুক্তি দেখে তারা বিভ্রান্ত। কারণ চীন রাশিয়ান তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশটি থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে তেল কেনে।