মায়ানমারের এক হাসপাতালে সামরিক বাহিনী জান্তার বিমান হামলায় ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮০ জন। বুধবার সন্ধেয় বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যের ম্রাউক–ইউ টাউনশিপে এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ত্রাণকর্মী ওয়ে হুন অং এই তথ্য জানিয়েছেন। জান্তার পক্ষ থেকে এই হামলার ব্যাপারে এখনও কিছু জানানো হয়নি। এই হাসপাতালটি আরাকান আর্মি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত স্থানীয় উদ্ধারকর্মী এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, মায়ানমারের সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় আরাকান সেনাবাহিনীর দখলে থাকা একটা হাসপাতাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই হামলায় ৩৪ জন রোগী এবং চিকিৎসা কর্মী নিহত হয়েছেন। বিদ্রোহী বাহিনী নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে এই অঞ্চলটি সংঘাতে জর্জরিত।
বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৯.১৩ মিনিট নাগাদ একটা জেট ফাইটার বিমান থেকে ওই হাসপাতাল লক্ষ্য করে দুটি বোমা নিক্ষেপ মায়ানমারের সামরিক বাহিনী। একটা বোমা হাসপাতালের ওয়ার্ডে আঘাত হানে এবং অন্য বোমাটি হাসপাতাল ভবনের মূল কাঠামোর কাছে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে হাসপাতাল ভবনের বেশিরভাগ অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি, মোটরবাইকসহ অনেক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাখাইন ভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে হাসপাতালটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, ভবনগুলি ভেঙে পড়েছে। চারিদিকে চিকিৎসা সরঞ্জামের ধ্বংসাবশেষ, মৃতদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অন্ধ্রপ্রদেশের আল্লুরি জেলায় গভীর খাদে পর্যটক বোঝাই বাস, নিহত ১০, আহত ২৫
মায়ানমার জুড়ে গৃহযুদ্ধের কারণে রাখাইনের অধিকাংশ হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই হাসপাতালটি এলাকার প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করত। ম্রাউক–ইউতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ডাক্তাররা পুনর্গঠিত হওয়ার পর সম্প্রতি এই হাসপাতলটি পুনরায় চিকিৎসা পরিষেবা শুরু করেছিল।
ম্রাউক–ইউ ইয়াঙ্গুন থেকে প্রায় ৫৩০ কিলোমিটার উত্তর–পশ্চিমে অবস্থিত। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আরাকান সেনাবাহিনী এই শহরটি নিয়ন্ত্রণে নেয়। আরাকান আর্মি রাখাইন জাতিগত আন্দোলনের সশস্ত্র শাখা হিসেবে কাজ করে, যারা দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের দাবি করে আসছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে এই গোষ্ঠীটি রাখাইন জুড়ে একটা উচ্চাভিলাষী আক্রমণ শুরু করে। শেষ পর্যন্ত একটা গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সেনা কমান্ড সেন্টার দখল করে এবং রাজ্যের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টিতে অঞ্চল দখল করে। ২০২১ সালে নোবেলজয়ী অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই দেশটি সংঘাত–সংঘর্ষে বিপর্যস্ত।