মারা গেলেন ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’র শ্রষ্ঠা প্রখ্যাত শিল্পী রাম সুতার। বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। বুধবার রাতে নিজের বাসভবনেই মারা যান তিনি। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে লড়াই করছিলেন এই প্রবীন শিল্পী। বিখ্যাত এই ভাস্কর ১০০তম জন্মদিনও উদযাপন করেছিলেন। বলা হয় যে, রাম সুতার যে কোনও পাথর স্পর্শ করলেই তা একটা অত্যাশ্চর্য শিল্পকর্মে রূপান্তরিত হত।
রাম সুতারের ছেলে আনিল সুতার বাবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ১৭ ডিসেম্বর বুধবার গভীর রাতে নিজের বাড়িতেই বাবা রাম সুতার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। সংবাদমাধ্যমকে শেয়ার করা এক বিবৃতিতে অনিল সুতার জানিয়েছেন, ‘গভীর শোকের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমার বাবা শ্রী রাম ভানজি সুতার ১৭ ডিসেম্বর মধ্যরাতে আমাদের নয়ডার বাসভবনে মারা গেছেন।’
১৯২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বর্তমান মহারাষ্ট্রের ধুলে জেলার অন্তর্গত গন্ডুর গ্রামে এক সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রাম সুতার। শৈশব থেকেই ভাস্কর্যের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। মুম্বইয়ের জেজে স্কুল অফ আর্ট অ্যান্ড আর্কিটেকচার থেকে পড়াশোনা শেষ করেন এবং স্বর্ণপদক লাভ করেন। পরবর্তীকালে তিনি ভারতীয় ভাস্কর্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান।
আরও পড়ুনঃ নির্জন কারাগারে বন্দী, খেতে দেওয়া হচ্ছে নোংরা জল, হেপাটাইটিসে আক্রান্ত ইমরান? মৃত্যুর আশঙ্কা দুই ছেলের
রাম সুতার এমন অনেক শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর প্রধান কাজের মধ্যে রয়েছে সংসদ চত্বরে ধ্যানমগ্ন ভঙ্গিতে উপবিষ্ট মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের অশ্বারোহী মূর্তি এবং সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের স্ট্যাচু অফ ইউনিটি। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের স্ট্যাচু অফ ইউনিটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মূর্তি। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মূর্তিটি নির্মাণের রেকর্ড রাম সুতারের দখলে।
শিল্পকর্মের জন্য রাম সুতার ১৯৯৯ সালে পদ্মশ্রী এবং ২০১৬ সালে পদ্মভূষণে ভূষিত হন। সম্প্রতি তাঁকে মহারাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার, মহারাষ্ট্র ভূষণেও ভূষিত করা হয়েছে।