ইডেনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট খেলতে নামার আগে বাইশ গজ নিয়ে কতই না নাটক ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের। ঘূর্ণি উইকেটের জন্য পিচ কিউরেটর সুজন মুখার্জির কাছে বারবার তদ্বির। সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলির কাছে কোচ গৌতম গম্ভীরের আব্দার। পছন্দের বাইশ গজ পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারল না ভারত। বুমেরাং হয়ে গেল টার্নিং উইকেট। ১২৪ রান তুলতেই কেঁপে গেল ভারতীয় ব্যাটিং। ১০০ রানেই পৌঁছতে পারল না। গুটিয়ে গেল মাত্র ৯৩ রানে। ৩০ রানে পরাজয়। এই নিয়ে ঘরের মাঠে টানা ৪ টেস্টে হার ভারতের। আর সবি স্পিনিং ট্র্যাক বানিয়ে।
দ্বিতীয় দিনের শেষে সম্প্রচারকারী টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন ক্রিকেটার চেতেশ্বর পুজারা বলছিলেন, এই উইকেটে ১২০ রান তাড়া করা কঠিন হয়ে যাবে। পুজারার ভবিষ্যতবানী মিলে গেল। দ্বিতীয় দিনের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ছিল ৯৩/৭। তৃতীয় দিন সকালে প্রোটিয়ারা ইনিংস কতদূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, সেটাই ছিল দেখার। করবিন বশকে সঙ্গে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা। ১৩৫ রানের মাথায় আউট হন বশ (৩৭ বলে ২৫)। এরপর হারমারকে নিয়ে লড়াই চালাচ্ছিলেন বাভুমা। হারমার (৭) ও কেশব মহারাজকে (০) একই ওভারে তুলে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৫৩ রানে গুটিয়ে দেন সিরাজ। প্রবল চাপের মুখে ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন বাভুমা। ৫০ রানে ৪ উইকেট নেন রবীন্দ্র জাদেজা।
জয়ের জন্য ভারতের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২৪। শুরুতেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। যশস্বী জয়সওয়াল কোনও রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। এই ধরণের উইকেটে ভারতের সেরা বাজি ছিল লোকেশ রাহুল। তিনি মাত্র ১ রান করে আউট হন। দুটি শিকারই মার্কো জানসেন। ১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ওয়াশিংটন সুন্দর (৩১) ও ধ্রুব জুরেল জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এরপরই ভেল্কি শুরু সাইমন হারমারের।
আরও পড়ুনঃ আবেগে ভেসে প্রিয়জনের স্মৃতিতে ডুব দিলেন টলিউডের আবেদনময়ী নায়িকা মিমি চক্রবর্তী
আরও পড়ুনঃ অবশেষে মোহভঙ্গ, নিলামের আগে আন্দ্রে রাসেল, বেঙ্কটেশ আয়ারকে ছেড়ে দিল কলকাতা নাইট রাইডার্স
উইকেটে জমে গিয়েও সাইমন হারমারকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে উইকেট ছুড়ে দেন জুরেল (১৩)। ধ্রুব জুরেলকে তুলে নিতেই ধস ভারতীয় ইনিংসে। এরপর হারমারের বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ দিয়ে আউট হন ঋষব পন্থ (২)। ১৮ রান করে আউট হন জাডেজা। ৩৩/২ থেকে ৭৭/৭ হয়ে যায় ভারত। ২২ গজের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে চেষ্টা করে যান ওয়াশিংটন। শেষ দিকে চালিয়ে খেলে দলকে আশা দেখাচ্ছিলেন অক্ষর প্যাটেল (১৭ বলে ২৬)। কিন্তু হারমারের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয়ে গেলেন। কেশব মহারাজের বলে দুরন্ত ক্যাচ নিয়ে তাঁকে ফেরান বাভুমা। ৩৫ ওভারে ৯৩ রানে গুটিয়ে যায় ভারত। ঘাড়ে চোট নিয়ে হাসপাতালে থাকায় শুভমান ব্যাট করতে পারেননি। হারমার ৪টি, মহারাজ ২টি ও এইডেন মার্করাম ১টি করে উইকেট নেন।
এদিন দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে বেশ কয়েকটা লজ্জার নজির গড়েছে ভারত। দেশের মাটিতে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে এটা ভারতের সর্বনিম্ন স্কোর। এর আগে ২০০৬ সালে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চতুর্থ ইনিংসে ১০০ রানে অল আউট হয়েছিল ভারত। সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন শুভমানরা। সব মিলিয়ে টেস্টে এটা ভারতের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান তাড়া করতে গিয়ে হার। ১৯৯৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে বার্বাডোজে ১২০ রান তাড়া করতে ব্যর্থ হয়েছিল। ভারতের মাটিতে এর আগে কোনও সফরকারী দল টেস্টে এত কম রানের টার্গেট দিয়ে জিততে পারেনি।