ট্রেন্ডিং

Kolkata Premier League Derby

ডুরান্ডের প্রতিশোধের স্বপ্ন অপূর্ণ, শক্তিশালী দল নামিয়েও লিগের ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের কাছে আটকে গেল মোহনবাগান

স্বপ্ন ছিল ডুরান্ড ফাইনালের প্রতিশোধ। তাই কলকাতা লিগের ডার্বিতে শক্তিশালী দল নামিয়েছিল মোহনবাগান। অন্যদিকে, তরুণ ব্রিগেডের ওপর ভরসা রেখেছিল ইস্টবেঙ্গল। অনভিজ্ঞ দুর্বল দল নিয়েও দুরন্ত লড়াই ইস্টবেঙ্গলের। দ্বিতীয়ার্ধে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে কলকাতা লিগের ডার্বিতে শক্তিশালী মোহনবাগানকে আটকে দিল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের ফল ১–১। প্রথমার্ধে গোল করে মোহনবাগানরে এগিয়ে দিয়েছিলেন মনবীর সিং। দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরান মোহাম্মদ বিলাল।

সমতা ফেরানোর পর ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস।

ইনসাইড বাংলা ওয়েব ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
Share on:

স্বপ্ন ছিল ডুরান্ড ফাইনালের প্রতিশোধ। তাই কলকাতা লিগের ডার্বিতে শক্তিশালী দল নামিয়েছিল মোহনবাগান। শুভাশিস বসু, মেহতাব সিং, রাহুল ভেকে, আপুইয়া থেকে শুরু করে সাহাল আব্দুল সামাদ, মনবীর সিং, কিয়ান নাসিরিরা প্রথম একাদশে। রিজার্ভ বেঞ্চে লিস্টন কোলাসো, অভিষেক সিং, অভিষেক সূর্যবংশীরা। অন্যদিকে, তরুণ ব্রিগেডের ওপর ভরসা রেখেছিল ইস্টবেঙ্গল। অনভিজ্ঞ লাল–হলুদ ব্রিগেডের বিরুদ্ধে যে শক্তিশালী মোহনবাগান দাপট দেখাবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দুর্বল দল নিয়েও দুরন্ত লড়াই ইস্টবেঙ্গলের। দ্বিতীয়ার্ধে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে কলকাতা লিগের ডার্বিতে শক্তিশালী মোহনবাগানকে আটকে দিল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের ফল ১–১। প্রথমার্ধে গোল করে মোহনবাগানরে এগিয়ে দিয়েছিলেন মনবীর সিং। দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফেরান মোহাম্মদ বিলাল।  

প্রত্যাশামতোই দাপটের সঙ্গেই শুরু করেছিল মোহনবাগান। ৫ মিনিটে সুযোগ এসে গিয়েছিল মোহনবাগানের সামনে। ডানদিক থেকে সেন্টার করেছিলেন কিয়ান নাসিরি। সায়ন ব্যানার্জি ঠিকঠাক হেড করতে পারেননি। তাঁর দুর্বল হেড জয় বাজের গায়ে লেগে কর্নার হয়ে যায়। ২ মিনিট পরেই সুযোগ এসে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। বক্সের বাইরে মনোতোষ মাজিকে ফাউল করেন আপুইয়া। রেফারি ফ্রিকিকের নির্দেশ দেন। বিজয় মুর্মুর শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। 

মোহনবাগানের লক্ষ্য ছিল বলের দখল রেখে আক্রমনে ঝাঁপিয়ে পড়া। অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল বেছে নিয়েছিল রক্ষণ মজবুত রেখে প্রতিআক্রমণে উঠে আসার পথ। মোহনবাগান বারবার আক্রমণ তুলে নিয়ে এলেও পেনিট্রেটিভ জোনে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারছিলেন না মনবীর, সাহাল, কিয়ানরা। সেই অর্থে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ ওপেন সুযোগ দেয়নি। তার মাঝেই মেহতাব সিং একটা দুরপাল্লার শট নিয়েছিলেন। সেই শটে অবশ্য ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার গৌরব সাউ তেমন পরীক্ষিত হননি। তবে ৩৫ মিনিটে তাঁর ছোট ভুলে বিপদজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। যদিও মোহনবাগান সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। 

একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে এসে অবশেষে ৩৮ মিনিটে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। মাঝমাঠ থেকে ভেসে আসা বল বুক দিয়ে নামিয়ে বাঁপায়ে শট নেন মনবীর সিং। বল জালে জড়িয়ে যায়। এই গোলের ক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গল গোলকিপারকে কিছুটা দায়ী করা যায়। গৌরব গোলমুখ ছোট না করে লাইনের ওপরই দাঁড়িয়ে ছিলেন। ইস্টবেঙ্গলের তিনজন ডিফেন্ডারও মনবীরের কাছাকাছি ছিলেন। তাঁরাও মনবীরকে আটকাতে ব্যর্থ হন। প্রথমার্ধে চূড়ান্ত দাপট থাকলেও গোলসংখ্যা আর বাড়াতে পারেনি মোহনবাগান। আকাশ হেমব্রম, মনোতোষ মাজিরা একবারের জন্যও বিব্রত করতে পারেননি মোহনবাগান গোলকিপারকে।


দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। বিজয় মুর্মুর শট শুভাশিসের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়। ৫৫ মিনিটে মেহতাব সিং ও মোহনবাগান গোলকিপার দীপ্রভাতের ভুল বোঝাবুঝিতে অপ্রত্যাশিত সুযোগ এসে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে। সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা মোহাম্মদ বিলালের। ৬২ মিনিটে আবার সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল বিজয় মুর্মুর সামনে। তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। 

দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গল অনেক বেশি ইতিবাচক ছিল। মোহাম্মদ বিলাল মাঠে নামার পর মোহনবাগান রক্ষণের ওপর চাপ বাড়ে। একের পর এক আক্রমণ তুলে নিয়ে আসছিল ইস্টবেঙ্গল। বেশ কয়েকটা গোলের সুযোগও তৈরি হয়। ৬৩ মিনিটে চাকু মাণ্ডির দুরন্ত শট চাপড়ে কোনও রকমে কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান মোহনবাগান গোলকিপার দীপ্রভাত। কর্নারে হেড করেছিলেন উত্তম হাঁসদা। বল ক্রশবারে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটেই সমতা। বিজয় মুর্মুর কর্নার থেকে দুরন্ত হেডে গোল করে সমতা ফেরান মোহাম্মদ বিলাল। 

মোহনবাগানের বলের দখল বেশি থাকলেও গোললক্ষ্য করে শটের বিচারে ইস্টবেঙ্গলই এগিয়ে ছিল। ৭২ মিনিটে সাহাল আব্দুল সামাদের জায়গায় সুহেল ভাটকে মাঠে নামান মোহনবাগান কোচ বাস্তব রায়। ৮৪ মিনিটে সুহেল ভাটের হেড গোলে ঢোকার মুখে অনবদ্য দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার গৌরব। বাকি সময় চাপ রাখলেও জয়ের কাঙ্খিত গোল গোল তুলে নিতে পারেনি মোহনবাগান। শক্তিশালী দল নামিয়েও ডুরান্ড ফাইনালে ডার্বির প্রতিশোধ নেওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল মোহনবাগানের।   

আরও পড়ুনঃ

অন্যান্য খবর

Inside Bangla is a comprehensive digital news platform. This web portal started its humble journey. Its courageous journalism, presentation layout and design quickly won the hearts of people. Our journalists follow the strict Journalism ethics.

Copyright © 2026 Inside Bangla News Portal . All Rights Reserved. Designed by Avquora