সব বিভাগেই দেশের সেরা ফুটবলার। ড্রেয়ান দ্রাজিচ, জেমি ম্যাকলারেন, আলবার্তো রডরিগেজের মতো বিদেশি। সেই দল যে জামশেদপুর এফসি–র মতো স্বদেশি ব্রিগেডের সামনে বেসামাল হয়ে পড়বে, সত্যিই ভাবা কঠিন। একঝাঁক তরুণ ফুটবলারের সামনে খেই হারিয়ে ফেললেন ম্যাকলারেন, লিস্টন কোলাসো, মনবীর সিংয়ের মতো অভিজ্ঞরা। ভাগ্যিস তিন কাঠির নিচে বিশাল কাইথ ছিলেন। তাঁর হাত ধরেই রুদ্ধশ্বাস ম্যারাথন সাডেন ডেথে জামশেদপুর এফসি–কে ৯–৮ ব্যবধানে হারিয়ে ডুরান্ড কাপের শেষ চারে মোহনবাগান। নির্ধারিত সময়ে খেলার ফল ছিল ১–১। ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে দলকে ডুবিয়েছিলেন মোহনবাগান গোলকিপার। কাইথের ‘বিশাল’ ভুলেই ম্যাচে সমতা ফিরিয়েছিল জামশেদপুর এফসি। সাডেন ডেথে মামার শট আটকে ভুলের প্রায়াশ্চিত্য করলেন মোহনবাগানের এই গোলকিপার। কাইথের লম্বা হাতই ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে তুলল মোহনবাগানকে।
ধারেভারে এগিয়ে থেকেই মাঠে নেমেছিল মোহনবাগান। নিজেদের শক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ম্যাচের ২ মিনিটেই এগিয়ে যায়। জামশেদপুর এফসি-র ডিফেন্সের ভুলে বল পেয়ে যান দ্রেয়ান দ্রাজিচ। সাহাল আব্দুল সামাদকে লক্ষ্য করে দুর্দান্ত থ্রু বাড়ান ড্রাজিচ। সেই থ্রু ধরে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন সাহাল। শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে দমে যায়নি জামশেদপুর এফসি। পাল্টা আক্রমন তুলে নিয়ে আসতে থাকে। ১৬ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগও এসেছিল। বল নিয়ে বক্সে ঢুকে গিয়েছিলেন আমন সিকে। গোলমুখ ছোট করে পরিস্থিতি সামাল দেন বাগান গোলকিপার বিশাল কাইথ।
এরপর একের পর আক্রমন তুলে নিয়ে আসে মোহনবাগান। ২৭ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল মোহনবাগানের সামনে। সাহালের দুর্দান্ত সেন্টারে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি ড্রেয়ান দ্রাজিচ। ৩৪ মিনিটে দ্রাজিচের সামনে আরও একটা সুযোগ এসে গিয়েছিল। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি। ৩৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল পেয়ে যেতেন সাহাল। বক্সের বাইরে থেকে গোল লক্ষ্য করে শট kনিয়েছিলেন। জামশেদপুর এফসি-র এক ফুটবলারের পায়ে লেগে বল গোলে ঢুকছিল। ঝাঁপিয়ে কোনও রকমে কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান জামশেদপুর গোলকিপার আলবিনো গোমস।
খেলার গতির বিরুদ্ধে মোহনবাগান গোলকিপার বিশাল কাইথের ভুলে সমতা ফেরায় জামশেদপুর এফসি। ম্যাচের ৪৫ মিনিটে প্রায় ৩৫ গজ দুর থেকে মোহনবাগান গোল লক্ষ্য করে গোলার মতো শট নিয়েছিলেন রাশিথই। সেই শট চাপড়ে সামনে ফেলেন মোহনবাগান গোলকিপার বিশাল কাইথ। দারুণভাবে ফলো করে সেই বল ছোট্ট টোকায় জলে পাঠান দেবেন্দ্র ঠাকুর মুরগাঁওকার। এই গোলের ক্ষেত্রে আলবার্ত রডরিগেজকেও দায়ী করা যায়। তিনি ফলো করলে দেবেন্দ্রর পক্ষে গোল করা সহজ হত না।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আপুইয়া ও দ্রাজিচকে তুলে কিয়ান নাসিরি ও জেলকোভিচকে মাঠে নামান মোহনবাগান কোচ প্যানাইওটিস ডিমপেরিস। আক্রমনে আরও গতি নিয়ে আসতে ৫৯ মিনিটে জেমি ম্যাকলারেনকেও মাঠে নামান মনবীরের জায়গায়। আক্রমণে গতি এলেও কাঙ্খিত গোল তুলে নিতে পারছিল না মোহনবাগান। জামশেদপুর এফসি-ও মাঝে মাঝে প্রতি আক্রমণ তুলে নিয়ে এসে বিব্রত করছিল মোহনবাগান রক্ষণকে। ৭৭ মিনিটে সাহালকে তুলে সায়ন ব্যানার্জিকে মাঠে নিয়ে আসেন ডিমপেরিস। তাঁর পাস থেকে ৭৯ মিনিটে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন ম্যাকলরেন। ২ মিনিট পরেই তাঁর গড়ানো শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচান আলবিনো গোমস। ম্যাচের ইনজুরি সময়ে সায়ন ব্যানার্জির শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় বাঁচিয়ে ম্যাচ টাইব্রেকারে নিয়ে যান জামশেদপুর গোলকিপার।
টাইব্রেকারে দুই দলের ফুটবলাররা ছিলেন দারুণ নিখুঁত। জামশেদপুরের হয়ে ৮টি শটে গোল করেন হরিতা, রেনিয়ার ফার্নান্ডেজ, আমন সিকে, অভিষেক আম্বেদকর, প্রণয় হালদার, প্রভাত লাকরা, প্রতীক চৌধুরি, বারলা। মামার নবম শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন মোহনবাগান গোলকিপার বিশাল কাইথ। এরপর চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় গোল করে মোহনবাগানকে সেমিফাইনালে তোলেন টেকচাম মিতাই। মোহনবাগানের হয়ে বাকি ৮টি শটে গোল করেন রাহুল বেকে, জেলকোভিচ, শুভাশিস বসু, জেমি ম্যাকলারেন, কিয়ান নাসিরি, অনিরুদ্ধ থাপা, আলবার্তো রডরিগেজ, সুহেল ভাট ও টেকচাম মিতাই।