ইয়েমেনের হাদরামাউতে দুটি সামরিক ঘাঁটিতে সৌদি আরবের বিমান হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সমর্থিত ২০ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী যোদ্ধা নিহত হয়েছে। হাদরামাউতের সামরিক ঘাঁটিগুলির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের চেষ্টার পর দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) বাহিনীর ওপর এই বিমান হামলা চালায়। ইয়েমেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে দেশ ত্যাগের জন্য ২৪ ঘন্টার সময়সীমা জারি করেছিল। সময়সীমা শেষ হওয়ার পরপরই এই হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব।
ওয়াদি হাদরামাউত এবং হাদরামাউত মরুভূমির এসটিসি–র প্রধান মোহাম্মদ আব্দুল মালিক এই বিমান হামলার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বৃহত্তম আল–খাশা সামরিক ঘাঁটিতে সাতটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া সেয়ুন ঘাঁটিতেও বিমান হামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কেবল চৌকিতে আওয়াজ এবং বিস্ফোরণ দেখতে পাচ্ছি, যা সৌদি আরব সমর্থিত বাহিনীর অগ্রসর হওয়ার পথ পরিষ্কার করছে। সৌদি বাহিনীর এই হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৫০ জন আহত।’
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে অস্ত্র সরবরাহ করার অভিযোগে সৌদি আরব ৩০ জিসেম্বর ইয়েমেনের বন্দর শহর মুকাল্লায় বোমা হামলা চালিয়েছিল। সৌদি আরব এবং তার জোট বাহিনী ইয়েমেনের রাশাদ আল–আলিমির সরকারকে সমর্থন করছে। সেই সময় সংযুক্ত আরব আমিরশাহি দক্ষিণ ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতাবাদী লড়াইয়ে জড়িত এসটিসি–কে সমর্থন করছে। ডিসেম্বরে এসটিসি সৌদি আরব এবং প্রতিবেশী মাহরা সীমান্তবর্তী হাদরামাউতের বেশিরভাগ অংশ দখল করে নেয়। রিয়াদ এসটিসি–র অগ্রগতিকে তার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে মনে করে।
সৌদি জোট বাহিনী ও ন্যাশনাল শিল্ড ফোর্সেস, হাদরামাউতের সামরিক স্থানগুলি শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য একটা অভিযান শুরু করার কিছুক্ষণ পরেই শুক্রবার এই মারাত্মক বিমান হামলা চালানো হয়। সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একটা সূত্র সংবাদসংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, ‘দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল দুটি গভর্নরেট থেকে সরে না আসা পর্যন্ত সৌদি আরব আক্রমণ চালিয়ে যাবে।’
এসটিসি সমর্থিত সাউদার্ন শিল্ড ফোর্সেসের মুখপাত্র মোহাম্মদ আল–নাকিব সৌদি আরবের এই বড় ধরণের আক্রমণের জন্য ‘মুসলিম ব্রাদারহুড এবং আল–কায়দা মিলিশিয়াদের’ ব্যবহার করার অভিযোগ করেছেন। এক্স–এ পোস্ট করা এক ভিডিওতে আল–নাকিব সর্বশেষ ঘটনাবলীকে ইয়েমেনের ১৯৯৪ সালের গৃহযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। মঙ্গলবার সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী ইয়েমেনের বন্দর শহর মুকালায় বোমা হামলা চালায়, যেখানে রিয়াদের দাবি ছিল যে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসটিসির জন্য পাঠানো অস্ত্র এবং সাঁজোয়া যান পাঠানো হচ্ছিল।
আবুধাবি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে যে, তারা রিয়াদের জাতীয় নিরাপত্তা অগ্রাধিকারকে সম্মান করে। সংযুক্ত আরব আমিরাশাহির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাশাহি সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও স্থিতিশীলতার প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছে। এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ যে কোনও পদক্ষেপ আমিরশাহি প্রত্যাখ্যান করে।’