নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, হিংসা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। একের পর খুন করা হচ্ছে রাজনৈতিক নেতাদের। কিছুদিন আগে ছাত্রনেতা উসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করে হয়েছিল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার খুন। এবার হত্যা করা হল বিএনপি–র প্রাক্তন নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে। কারওয়ান বাজার এলাকায় অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন বিএনপি সঙ্গে যুক্ত এক স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের এই প্রাক্তন নেতা।
বুধবার বাংলাদেশের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে গ্রিন রোড এলাকায় খুব কাছ থেকে গুলি করা হয় মুসাব্বিরকে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে কাছের বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতেলে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকরা মুসাব্বিরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই কারওয়ান বাজারে বিক্ষোভ শুরু হয়। রাস্তায় নেমে পড়েন বিএনপি কর্মী–সমর্থকরা। যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ এবং সেনাবাহিনী জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে হস্তক্ষেপ করে। আক্রমণকারীদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
ডিএমপি–র তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ–পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম জানান, ‘এই গুলি চালানোর ঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আজিজুর রহমান মুসাব্বির মারা গেছেন এবং আরও একজন গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।’ প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আক্রমণকারীরা খুব কাছ থেকে গুলি চালায়। মুসাব্বির গুলিবিদ্ধ হয় এবং ঘটনাস্থলেই পড়ে যান। হামলায় আরও একজন আহত হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে দুজনকেই বিআরবি হাসপাতালে ইয়ে যাওয়া হয়। পরে মুসাব্বিরকে পান্থপথ এলাকার একটা বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই তিনি মারা যান।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং তারপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ–পুলিশ কমিশনার ফজলুল করিম জানান, মুসাব্বিরের পেটে গুলি লাগে। প্রচুর রক্তক্ষরণের ফলে তিনি মারা যান। ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ নির্বাচন। নির্বাচনের আগে দেশে সহিংসতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর আগে বিশিষ্ট ছাত্রনেতা উসমান শরীফ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক অন্য একটা ঘটনায় একজন যুবদল নেতাকে গুলি করা হয়েছে।
গুলিবর্ষণের পর বুধবার গভীর রাতে কারওয়ান বাজার এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা সার্ক ফাউন্টেন মোড় অবরোধ করে। যার ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ সেনা সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। পরে বিক্ষোভকারীরা পুনরায় সংগঠিত হয়, যার ফলে নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে। আরও অস্থিরতা এড়াতে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর ইউনিট কয়েক ঘন্টা ধরে ঘটনাস্থলে অবস্থান করে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য তল্লাশি অভিযান চলছে।