শাক্সগাম উপত্যকা নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে আবার বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভারতের আপত্তির মাঝেই সোমবার এই উপত্যকার ওপর চীন আবার নিজেদের দাবি তুলে ধরেছে। চীন জোর দিয়ে বলেছে যে, এই অঞ্চলে তাদের অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণরূপে ন্যায্য। গত শুক্রবার চীনের শাক্সগাম উপত্যকা প্রকল্পের সমালোচনা করে ভারত জানিয়েছে, এটা ভারতীয় ভূখণ্ড এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
১৯৬৩ সালে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে অবৈধভাবে দখলকৃত ৫১৮০ বর্গকিলোমিটার শাক্সগাম উপত্যকা চীনকে হস্তান্তর করে পাকিস্তান। কিন্তু ভারত কখনও এই চুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি। বরাবরই এই চুক্তিকে অবৈধ বলে অভিহিত করে এসেছে। কিন্তু চীন বারবার এই উপত্যকাকে নিজেদের বলে দাবি করে এসেছে। শাক্সগামে কিছু অবৈধ নির্মানও করেছে। ভারত চীনের এই পদক্ষেপকে অনৈতিক বলে আপত্তি জানিয়েছে। সম্প্রতি শাক্সগামে চীন কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। শুক্রবার ভারত তার আপত্তি জানিয়েছে।
ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘শাক্সগাম উপত্যকা ভারতীয় ভূখণ্ড। আমরা কখনও ১৯৬৩ সালের তথাকথিত চীন–পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিকে স্বীকৃতি দিইনি। আমরা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছি যে এই চুক্তি অবৈধ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তথাকথিত চীন–পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরকেও স্বীকৃতি দিই না। কারণ এটা ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে গেছে, যা পাকিস্তান অবৈধভাবে এবং জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে।’ শাক্সগাম উপত্যকায় চীনের অবকাঠামো প্রকল্প সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটা পাকিস্তানি এবং চীনা কর্মকর্তাদের কাছে বেশ কয়েকবার স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।’
জয়সওয়ালের মন্তব্যের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ‘শাক্সগাম চীনের অংশ। চীনের নিজস্ব ভূখণ্ডে অবকাঠামোগত কার্যক্রম পুরোপুরি ন্যায্য।’ মাও জানিয়েছেন, ১৯৬০–এর দশকে চীন ও পাকিস্তান একটা সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করে। যার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সার্বভৌম দেশ হিসেবে এটা চীন ও পাকিস্তানের অধিকার।
চীন–পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে ভারতের সমালোচনা প্রসঙ্গে মাও বেজিংয়ের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, এটা স্থানীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার লক্ষ্যে একটা অর্থনৈতিক উদ্যোগ। মাও বলেন, ‘এই ধরনের চুক্তি এবং চীন–পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর কাশ্মীর ইস্যুতে চীনের অবস্থানকে প্রভাবিত করবে না এবং এই বিষয়ে চীনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। কাশ্মীর ইস্যুতে চীনের সরকারী অবস্থান হল যে, জম্মু ও কাশ্মীর বিরোধ দীর্ঘদিনের এবং জাতিসংঘের সনদ, প্রাসঙ্গিক নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুসারে ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে এর সমাধান করা উচিত। চীন ধারাবাহিকভাবে এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আসছে।’