ভবিষ্যতে যদি পৃথিবী কোনও বড় সংকটের মুখোমুখি হয়? পৃথিবী যদি ধংস হয়ে যায়? তাহলে মানব সভ্যতার কী হবে? চিন্তা নেই। চাঁদে বসতি স্থাপনের ব্যবস্থা করছেন ইলন মাস্ক। আগামী ১০ বছরের মধ্যে তিনি চাঁদে একটা শহর নির্মাণ করতে চান। যদিও মাস্ক চাঁদে স্ব–বর্ধনশীল শহরের সম্পূর্ণ পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি। তবে মনে করা হচ্ছে, চাঁদে এমন একটা শহর হবে যা, পৃথিবীর ওপর নির্ভরশীল হবে না। বিদ্যুৎ, অক্সিজেন, খাদ্য এবং শিল্প সেখানে উৎপন্ন হবে। এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শহরটি প্রসার লাভ করবে।
ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের পরিকল্পনা ছিল মঙ্গল গ্রহে একটা উপনিবেশ স্থাপন করা। কিন্তু সেই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রেখেছে। কারণ মঙ্গল গ্রহে শহর স্থাপন করতে ২০ বছরেরও বেশি সময় লেগে যাবে। সেই জায়গায় ইলন মাস্কের ধারণা, চাঁদে ১০ বছরেরও কম সময়ে শহর স্থাপন করতে পারবেন। তাই স্পেসএক্স বর্তমানে মঙ্গল গ্রহে শহর স্থাপনের পরিকল্পনা স্থগিত রেখে চাঁদে একট শহর নির্মাণের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করছে।
ইলন মাস্ক এক্স–এ লিখেছেন, ‘মঙ্গল গ্রহে শহর নির্মাণের পরিকল্পনা এখনও শেষ হয়নি। ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে সেখানে কাজ শুরু হবে। তবে, বর্তমানে চাঁদই অগ্রাধিকার।’ কেনও হঠাৎ করে মঙ্গল গ্রহের পরিবর্তে চাঁদকে আগে বেছে নিলেন ইলন মাস্ক? এক্স–এ তিনি কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। মাস্ক লিখেছেন, ‘প্রতি ১০ দিন অন্তর চাঁদে উৎক্ষেপণ করা যেতে পারে, এবং সেখানে পৌঁছতে মাত্র ২ দিন সময় লাগে। অন্যদিকে, মঙ্গল গ্রহে উৎক্ষেপন প্রতি ২৬ মাসে হয়। সেখানে পৌঁছতে প্রায় ৬ মাস সময় লাগে। এই কারণেই চাঁদে দ্রুত কাজ করা সম্ভব।’
মাস্ক বলেন, স্পেসএক্সের লক্ষ্য হল পৃথিবীর বাইরেও মানুষের জীবন সম্প্রসারণ করা। তিনি বিশ্বাস করেন যে, ভবিষ্যতে যদি পৃথিবী কোনও বড় সংকটের মুখোমুখি হয়, তাহলে মানব সভ্যতা রক্ষার জন্য চাঁদ এবং মঙ্গলের মতো গ্রহে বসতি স্থাপন অপরিহার্য হবে। যদিও মাস্ক চাঁদে শহরের সম্পূর্ণ পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি। তবে বিশ্বাস, এমন একটা শহর হবে যা পৃথিবীর ওপর নির্ভরশীল হবে না। চাঁদেই বিদ্যুৎ, অক্সিজেন, খাদ্য এবং শিল্প উৎপন্ন হবে। মাস্ক আগে বলেছিলেন যে, মঙ্গল গ্রহে একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ শহর হওয়া উচিত, যাতে পৃথিবী থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলেও মানুষ বেঁচে থাকতে পারে। এর মধ্যে থাকবে সৌরশক্তিচালিত কৃষি, কর্মসংস্থান এবং স্ব–নিয়ন্ত্রণ।
সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, স্পেসএক্স ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে চন্দ্রযানে অবতরণের চেষ্টা করতে পারে। এই অভিযানটি হবে মনুষ্যবিহীন। অ্যাপোলো ১৭ অভিযানের (১৯৭২) পর এটাই হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম চন্দ্রযানে অবতরণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন উভয়ই আবার চাঁদে পৌঁছনোর জন্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে নাসা। মাস্ক আরও জানিয়েছেন যে, এই বছর স্পেসএক্সের রাজস্বে নাসার অংশ ৫% এরও কম হবে, যার বেশিরভাগই আসবে স্টারলিংক ইন্টারনেট পরিষেবা থেকে।