দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের কাছে এক টাউনশিপে অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারীদের গুলিতে ৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। রবিবার জোহানেসবার্গ থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ–পশ্চিমে অবস্থিত দরিদ্র সোনার খনির এলাকা বেকারসডালের এক বারে ভোরে এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে যে, ১০–১২ জন সন্দেহভাজন আততায়ী দুটি গাড়িতে করে এসেছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ সার্ভিসের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘রবিবার ভোরে একটা সাদা কম্বি এবং একটা রূপালী সেডান গাড়িতে করে আততায়ীরা বারের সামনে হাজির হয়। এরপর বারের ভেতরে ও বাইরে অতর্কিতে গুলি চালাতে শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময়ও এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকে। রাস্তায় বেশ কয়েককে গুলি করে।’
পুলিশ প্রথমে ১০ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু পরে পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়, ৯ জন মারা গেছেন। প্রাদেশিক পুলিশ কমিশনার মেজর জেনারেল ফ্রেড কেকানা সংবাদমাধ্যম এসএবিসিকে জানান, নিহতদের মধ্যে একটা অনলাইন কার হেলিং সার্ভিসের একজন চালকও রয়েছেন। যিনি সেই সময় বারের বাইরে ছিলেন। হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। আততায়ীদের চিহ্নিত করতে প্রত্যক্ষদর্শীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশের কাছে গুলি চালানোর উদ্দেশ্য এখনও অজানা। তদন্ত শুরু করেছে।
বেকারসডালের এই হামলাটি দক্ষিণ আফ্রিকায় চলতি মাসে দ্বিতীয়বারের গণহত্যার ঘটনা। ৭ ডিসেম্বর প্রিটোরিয়ার কাছে সলসভিল টাউনশিপে বন্দুকধারীরা একটা হোস্টেলে হামলা চালায়। সেই হামলায় তিন বছরের একটা শিশুসহ কমপক্ষে ১১ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়। এই গুলি চালানোর ঘটনাটি ঘটে একটা অবৈধ মদের দোকানে, যা প্রায়শই এই ধরনের হামলার সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় এখনও সহিংস অপরাধের ছোঁয়া লেগেই আছে। যার মূল কারণ গ্যাং কার্যকলাপ, ব্যবসায়িক বিরোধ এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যাপক প্রচলন। পুলিশের তথ্য অনুসারে, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৬৩ জন নিহত হয়েছেন, যা বিশ্বের অন্যতম সহিংস দেশটিতে সঙ্কটের তীব্রতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।