যুদ্ধবিরতির কালি শুকোতে না শুকোতেই ক্ষেপণাস্ত্র আবারও আকাশ চিরে ফেলল। যে ভয় পুরো বিশ্বকে গ্রাস করেছিল, তা অবশেষে বাস্তবে পরিণত হল। ট্রাম্প অবশেষে সেই ভয়কে সত্যি প্রমাণ করলেন। গত ২৪ ঘণ্টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, যার ফলে তেহরান পাল্টা জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে।
জর্ডনের আল–আজরাক সামরিক বিমানঘাঁটিতে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। এই বিমানঘাঁটি জর্ডনের হলেও মার্কিন সামরিক বাহিনী এটা ব্যবহার করে। ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে, জর্ডনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই প্রতিহত করায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ইরানের এই হামলার পর পশ্চিম এশিয়া জুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলা চলতে থাকলে এর প্রভাব শুধু এই দুটি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে। এ কারণেই উভয় দেশ এরপর কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে।
এই হামলার পর ইরান ভবিষ্যতের জন্য একটা সতর্কবার্তা দিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে যে, তারা জর্ডানের আল–আজরাক বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘যদি মার্কিন বাহিনী তাদের আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি করে, তবে এই অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিগুলিও আমাদের ভারী গোলাবর্ষণ থেকে নিরাপদ থাকবে না।’ আল–আজরাক বিমান ঘাঁটি জর্ডনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। জর্ডনের বিমান বাহিনী এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী উভয়ই সেখানে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই কারণেই ইরান এটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। আল–আজরাক বিমান ঘাঁটিকে এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানে ১৭০টিরও বেশি বিস্ফোরণ, আকাশে আগুনের শিখা ও মাটিতে বারুদ দেখা গেছে। বিশ্ব এক বিরাট প্রশ্নের মুখোমুখি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কি এখন অতীত? উপসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি কি চিরতরে ভেঙে গেল? ট্রাম্প ইরানের ওপর আরেকটা বিধ্বংসী হামলা চালিয়ে শান্তি চুক্তির পথে সম্পূর্ণ ছেদ টেনেছেন। তবে, এই হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন মাশহাদে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে দাফন করা হচ্ছিল।
ট্রাম্প ২৪ ঘণ্টা আগেই সতর্কবার্তা জারি করেছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, এবার ইরানের বিরুদ্ধে মারাত্মক হামলা চালানো হবে। বিশ্ব এটিকে হুমকি হিসেবে দেখেছিল। কিন্তু ইরানের ওপর অন্ধকার নেমে আসার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন বোমারু বিমান বিস্ফোরণের মাধ্যমে এলাকাটি আলোকিত করে তোলে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা ইরানের ওপর অত্যন্ত জোরালো হামলা চালিয়েছি। আমি বলব, আমরা ২০ গুণ বেশি শক্তি দিয়ে জবাব দিয়েছি।’
১৫০টি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। ১৭০টিরও বেশি হামলা চালানো হয়। ১০টি শহর ও ৫টি দ্বীপকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। ট্রাম্প এই হামলাগুলোকে নিছক একটি ট্রেলার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, ইরান যদি তার যুদ্ধবাজি ত্যাগ না করে, তবে তার অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন হতে বেশি সময় লাগবে না। ইরানের ওপর হামলা আরও তীব্র হতে থাকবে। এদিকে, ২০টি যুদ্ধজাহাজ আরব সাগরে টহল দিচ্ছে। আকাশে যুদ্ধবিমানগুলোকে নজরদারি চালাতে দেখা যাচ্ছে, কিন্তু ইরানের দ্ব্যর্থহীন জবাব হল, তারা আমেরিকার কাছে মাথা নত করবে না। এ কারণেই ইরান জর্ডন, কুয়েত ও বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে আমেরিকান আক্রমণের জবাব দিয়েছে।