ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ যেমন বাড়ছে, তেমন দমন–পীড়নের মাত্রাও ক্রমশ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৬০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। দেশজুড়ে চলমান খামেনি বিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত থাকার জন্য প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে চলেছে ইরানি প্রশাসন। ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হবে।
তেহরানের কাছে কারাজের ফারদিস পাড়ার বাসিন্দা এরফান সোলতানিকে ৮ জানুয়ারি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশগ্রহণের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থা এবং মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, বুধবার তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা। ইরানে বিক্ষোভ দমনের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান দেওয়া হয়েছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
চলমান বিক্ষোভের সময় এরফান সোলতানিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা আন্দোলনে আটক হওয়া প্রথম বিক্ষোভকারী। ইজরায়েলি এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম জেফিডের মতে, সোলতানির মামলা আরও বিক্ষোভ রোধ করার জন্য মৃত্যুদণ্ডের একটা সিরিজের সূচনা। নরওয়ের এক কুর্দি মানবাধিকার সংস্থা হেঙ্গাও পুরো আইনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। লেবানিজ–অস্ট্রেলিয়ান মানবাধিকারকর্মী রিও নোফাল, তাঁর এক্স–এ সোলতানি সম্পর্কে পোস্ট করে বলেছেন যে, এটা প্রথম মৃত্যুদণ্ড। তিনি ইরানি কর্তৃপক্ষকে জনতা নিয়ন্ত্রণের জন্য সোলতানিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগের কথা তুলে ধরেছেন।
গ্রেফতারের পর থেকে সোলতানিকে মৌলিক আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাঁকে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি, এমনকী আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। সোলতানির পরিবারকে মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থেকেও দূরে রাখা হয়েছে, যার মধ্যে গ্রেফতারকারী সংস্থাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
হেঙ্গো সংস্থার বরাত দিয়ে জেফিড জানিয়েছে যে, ১১ জানুয়ারি সোলতানির পরিবারকে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের কথা জানানো হয়েছিল। এরপর তাদের মাত্র ১০ মিনিটের জন্য সোলতানির সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটা সূত্র হেঙ্গোকে জানিয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই শাস্তি চূড়ান্ত এবং নির্ধারিত সময়েই কার্যকর করা হবে। সূত্রটি আরও জানিয়েছে যে সোলতানির বোন, যিনি নিজেও একজন আইনজীবী, আইনি মাধ্যমে মামলাটি পরিচালনা করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাঁকে এখনও মামলার ফাইল দেখার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ভাইয়ের প্রতিনিধিত্ব করার বা সাজা চ্যালেঞ্জ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।