ট্রেন্ডিং

Nicolas Maduro Appears in New York Court

‌পায়ে শিকল বেঁধে নিউ ইয়র্কের আদালতে তোলা হল ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে, বাইরে বিক্ষোভ

নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হল ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র পাচারের অবিযোগ নিয়ে আসা হয়েছে। নিকোলাস মাদুরো অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।তিনি আদালতে দাবি করেন, তাঁকে অবৈধভাবে গ্রেফতার ও অপহরণ করা হয়েছে। প্রথম শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন মাদুরো।

নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মাদুরোকে।

ইনসাইড বাংলা ওয়েব ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ০৬, ২০২৬
Share on:

নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হল ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র পাচারের অবিযোগ নিয়ে আসা হয়েছে। নিকোলাস মাদুরো অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।তিনি আদালতে দাবি করেন, তাঁকে অবৈধভাবে গ্রেফতার ও অপহরণ করা হয়েছে। প্রথম শুনানিতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন মাদুরো।

২ জানুয়ারি রাতে ভেনেজুয়েলায় আক্রমণকারী মার্কিন সেনারা মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেফতার করে। পরে তাঁদের নিউ ইয়র্কে আনা হয়, যেখানে তাদের একটা আটক কেন্দ্রে রাখা হয়। মাদুরোকে নিয়ে একটা হেলিকপ্টার নিউ ইয়র্কের আদালতের কাছে একটা হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। নামার পর তাঁকে একটা ভ্যানে করে সরাসরি আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। শুনানির সময় মাদুরোর পায়ে শিকল বাঁধা ছিল। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী একই টেবিলে বসেছিলেন এবং হেডফোন পরেছিলেন যাতে তারা তাদের মাতৃভাষায় কী বলা হচ্ছে তা বুঝতে পারেন। বিচারক তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে পড়ে শোনান। 

নিউ ইয়র্কের আদালতে তোলা হলে নিকোলাস মাদুরো বলেন, ‘‌আমি অপরাধী নই। আমি একজন সম্মানিত মানুষ এবং আমি এখনও আমার দেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।’‌ মাদুরোর আইনজীবীরা মার্কিন পদক্ষেপকে সামরিক অপহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, এটি আন্তর্জাতিক আইন এবং আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে। ১৭ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। মার্কিন আদালতের অধিকারকে চ্যালেঞ্জ করার জন্যও মাদুরোর আইনজীবীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁদের আইনি কৌশলের মূল বিষয়, মার্কিন সংস্থাগুলি মাদুরোকে বিদেশের মাটিতে অবৈধভাবে গ্রেফতার করেছে।

মার্কিন মাদক সংস্থার একটা দল নিকোলাস মাদুরোকে আদালতে হাজির করার জন্য হেলিকপ্টার করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসে। মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও আদালতে হাজির হন। তাঁর মুখে আঘাত এবং ব্যান্ডেজ ছিল। তিনি নিজেকে ভেনেজুয়েলার ফার্স্ট লেডি হিসেবে পরিচয় দেন এবং সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। মাদুরো, তাঁর স্ত্রী এবং সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারকারী এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের অভিযোগ নিয়ে আসা হয়েছে। মাদুরোর বিরুদ্ধে একটা মেশিনগান রাখার অভিযোগও রয়েছে। যার জন্য দীর্ঘ সাজা হতে পারে।

মাদুরোর বিচার চলাকালীন আদালতের বাইরে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছিল। শুনানি চলাকালীন আদালতের বাইরে বিক্ষোভ তারা বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীরা একদিকে যেমন মার্কিন দমনপীড়নের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল, তেমনই মাদুরোবিরোধী বিক্ষোভকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিল। শুনানির পর মাদুরো যখন চলে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ান, সেই সময় গ্যালারিতে থাকা একজন লোক তাঁকে বলেন, নিজের অপরাধের জন্য মূল্য দিতে হবে। মাদুরো পাল্টা বলেন, তিনি তাঁর স্বাধীনতা অর্জন করবেন।


মার্কিন মাদক সংস্থার অভিযোগপত্রে মাদুরোর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গুয়েরার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিওসদাডো ক্যাবেলো এবং কুখ্যাত গ্যাং ট্রেন ডি আরাগুয়ার নেতা হেক্টর গুয়েরো ফ্লোরেসের নামও রয়েছে, যাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন বলে মনে করে।

এদিকে, সোমবার সন্ধ্যায় ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হঠাৎ করেই গুলি এবং বিমান বিধ্বংসী গুলির শব্দ শোনা যায়। সিএনএন-–এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, একটা ভিডিওতে কারাকাসের আকাশে বিমান বিধ্বংসী বন্দুকের গুলিবর্ষণ দেখা যায়। অন্য একটা ভিডিওতে গুলির শব্দ শোনা গেছে। বলা হচ্ছে যে, রাজধানী কারাকাসে মোতায়েন বিভিন্ন নিরাপত্তা ইউনিটের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং ভুল বোঝাবুঝির কারণে এটা ঘটেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সিএনএনকে জানিয়েছেন, তিনি মিরাফ্লোরেস রাষ্ট্রপতি প্রাসাদের কাছে উর্দানেতা অ্যাভিনিউতে গুলির শব্দ শুনেছেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্তা বলেছেন যে, এই ঘটনায় আমেরিকার কোনও ভূমিকা নেই। পরে দাবি করা হয় যে, মিরাফ্লোরেস পুলিশ এবং রাষ্ট্রপতি প্রাসাদের নিরাপত্তা কর্মীরা ওই এলাকায় উড়ন্ত একটা ড্রোনের ওপর গুলি চালায়, যার পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

এদিকে, মার্কিন হামলার পর ভেনেজুয়েলা সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মার্কিন হামলাকে সমর্থনকারী যে কাউকে অবিলম্বে অনুসন্ধান করে গ্রেফতার করা হোক। সোমবার জারি করা এক সরকারি নির্দেশ অনুসারে, সারা দেশের পুলিশকে এই ধরনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, মার্কিন হামলার প্রতি যে কোনও ধরণের সমর্থন সহ্য করা হবে না।


আরও পড়ুনঃ

অন্যান্য খবর

Inside Bangla is a comprehensive digital news platform. This web portal started its humble journey. Its courageous journalism, presentation layout and design quickly won the hearts of people. Our journalists follow the strict Journalism ethics.

Copyright © 2026 Inside Bangla News Portal . All Rights Reserved. Designed by Avquora