গত রবিবারে সোনার খনি ধসে প্রায় ১০০ জন মারা গিয়েছিলেন। তার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার সুদানে সোনার খনিতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। রবিবার সোনার খনিতে সুড়ঙ্গ ধসে অন্তত ১১ জন খনি শ্রমিক নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকেই আটকে পড়ে রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চলছে।
রবিবারের এই দুঘটনাটি এক সপ্তাহের মধ্যে সুদানে দ্বিতীয় অপরিকল্পিত সোনার খনি ধসের ঘটনা। এই খনিগুলো সুদান জুড়ে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার ছোট ও অপরিকল্পিত খনির মধ্যে অন্যতম। দেশটি এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে যা মাঝে মাঝে দেশের কিছু অংশকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে। গত রবিবার দেশের পশ্চিমাঞ্চলে একটা সোনার খনির বেশ কয়েকটি সুড়ঙ্গ ধসে অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছিলেন।
রবিবার যে জায়গায় দ্বিতীয় দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেই এলাকাটি আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই র্যাপিড ফোর্স তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে সুদানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে আসছে। ঘটনাস্থলে থাকা কর্মী আবদালহাই খারিফ আবাকার জানিয়েছেন, উত্তর–পূর্ব রেড সি রাজ্যের ওনি–র প্রত্যন্ত অঞ্চলে শনিবার রাতে খনিতে ধস শুরু হয়। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সুদানিজ মিনারেল রিসোর্সেস কোম্পানির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রবিবার পর্যন্ত ১১টি মৃতদেহ উদ্ধার এবং ৩০ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কোম্পানির পক্ষ থেকে বিবৃতিতে খনি ধসে নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানালেও, হতাহতের বিষয়ে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। সোনা উৎপাদনকারী দেশ সুদানে খনি ধসে মৃত্যু কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। যেখানে নিরাপত্তা বিধি ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হয়। প্রচুর পরিমানে সোনা পাচার করা হয়। জাতিসংঘ নিযুক্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, আরএসএফ–কে অর্থায়নের জন্য বিপুল পরিমাণ সোনা দেশ থেকে পাচার করা হয়েছে। আরএসএফ দারফুর এবং কর্ডোফান অঞ্চলের সোনা উৎপাদনকারী এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণ করে।
২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানে আরএসএফ এবং সুদানি সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই শুরু হয়, যা দেশকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে নিমজ্জিত করে। ‘আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা’ নামক পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠীর মতে, এই সংঘাতে অন্তত ৫৯০০০ মানুষ নিহত হয়েছে। ত্রাণ সরবরাহকারী সংস্থাগুলির অবশ্য দাবি, এই নিহতের সংখ্যা প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম এবং প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক গুণ বেশি হতে পারে।