ট্রেন্ডিং

Taliban Introduce New Criminal Code

সংবিধান চূড়ান্ত করল ‌তালিবানরা, আফগানিস্তানে ফিরে এল মধ্যযুগীয় দাসপ্রথা, অভিজাত ও মোল্লারা অস্পৃশ্য

আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পর অবশেষে সংবিধান চূড়ান্ত করল তালিবানরা। আর এই সংবিধান ঘোষিত হওয়ার আগেই তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। সংবিধান জুড়ে শরিয়া আইনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চালু করা হয়েছে বর্ণ ব্যবস্থা। অস্পৃশ্য করে তোলা হয়েছে অভিজাত ও মোল্লাদের। ধর্মীয় অভিজাতরা অপরাধের জন্য কোনও শাস্তি পাবেন না। নতুন জারি করা ফৌজদারি কার্যবিধি আফগান সমাজকে কঠোর শ্রেণীতে বিভক্ত করার বিষয়ে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলির মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

পাঁচ বছর পর অবশেষে সংবিধান চূড়ান্ত করল তালিবানরা।

ইনসাইড বাংলা ওয়েব ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬
Share on:

আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পর অবশেষে সংবিধান চূড়ান্ত করল তালিবানরা। আর এই সংবিধান ঘোষিত হওয়ার আগেই তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। সংবিধান জুড়ে শরিয়া আইনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চালু করা হয়েছে বর্ণ ব্যবস্থা। অস্পৃশ্য করে তোলা হয়েছে অভিজাত ও মোল্লাদের। ধর্মীয় অভিজাতরা অপরাধের জন্য কোনও শাস্তি পাবেন না। নতুন জারি করা ফৌজদারি কার্যবিধি আফগান সমাজকে কঠোর শ্রেণীতে বিভক্ত করার বিষয়ে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলির মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

নতুন তালেবান সংবিধানে ১০টি ধারা এবং ১১৯টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। সংবিধানে বলা হয়েছে আফগান শাসনব্যবস্থা কেবল শরিয়া আইনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। নতুন তালিবান কোডের ৯ নম্বর ধারায় আফগান সমাজকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়েছে। শীর্ষস্থানে রয়েছেন ধর্মীয় পণ্ডিতরা। মোল্লারা (ধর্মীয় পণ্ডিত) যদি কোনও অপরাধ করেন, তাহলে তাদের কেবল পরামর্শ দেওয়া হবে। আর সর্বনিম্ন স্তরের ব্যক্তিরা কারাদণ্ড এবং শারীরিক শাস্তি উভয়ই ভোগ করবেন। তালিবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানে একই অপরাধের শাস্তি এখন অপরাধীর শ্রেণীর ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হবে।

চলতি মাসের শুরুতে আখুন্দজাদা তালিবান শাসিত আফগানিস্তানে বিচারিক প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য ১১৯ ধারার  ফৌজদারি কার্যবিধি স্বাক্ষর এবং বিতরণ করেছেন। এই বিধানগুলি সমতা, মানবিক মর্যাদা এবং দাসত্বের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার নীতির পরিপন্থী এবং মধ্যযুগের চেয়েও অনেক খারাপ। তালিবান শাসনের বিরোধী রাজনৈতিক নেতা এবং উপদলগুলির একটা জোট, আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরোধের জন্য সুপ্রিম কাউন্সিল এই বিধানগুলির তীব্র সমালোচনা করেছে। 


তালিবানদের নতুন আইনে কেবলমাত্র নির্দিষ্ট ধরণের শারীরিক সহিংসতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যেমন হাড় ভাঙা বা চামড়া ছিঁড়ে ফেলার মতো শাস্তি। তবে একজন বাবা তার ১০ বছর বয়সী ছেলেকে নামাজ অবহেলার মতো কাজের জন্য শাস্তি দিতে পারেন। সমালোচকরা বলছেন যে, তালিবানরা দাসপ্রথার মতো আইনি বিভাগগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে এবং সহিংসতাকে আইনি পবিত্রতা দিয়েছে।

২০২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তালিবান সরকার ডিক্রির মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। তালিবান সরকার শাসন করার জন্য ৪৭০টি ডিক্রি জারি করেছে। এই ডিক্রিগুলির বেশিরভাগই শরিয়া আইনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ডিক্রিগুলি সরাসরি তালিবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুনজাদা জারি করেন।

OCHA রিপোর্ট অনুসারে, তালিবান নীতিগুলি আফগানিস্তানের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিয়েছে। নারীদের শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান ইতিমধ্যেই সীমিত ছিল, এবং এখন জনজীবন এবং অর্থনৈতিক জীবনে তাদের অংশগ্রহণও কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকার এটি অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ ডিক্রি জারি করেছে।

আরও পড়ুনঃ

অন্যান্য খবর

Inside Bangla is a comprehensive digital news platform. This web portal started its humble journey. Its courageous journalism, presentation layout and design quickly won the hearts of people. Our journalists follow the strict Journalism ethics.

Copyright © 2026 Inside Bangla News Portal . All Rights Reserved. Designed by Avquora