নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তির অঙ্গ হিসেবে বুধবার ১৮ জন কম্বোডিয়ান সেনাকে মুক্তি দিল থাইল্যান্ড। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় এই পদক্ষেপ। উভয় দেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সীমান্তে তুমুল সংঘর্ষের পর উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছে।
দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র শনিবার দুপুরে যুদ্ধ বন্ধ করতে সম্মত হয় এবং এক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে। যার ফলে প্রায় ২০ দিনের সংঘর্ষের অবসান ঘটে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০১ জন নিহত এবং ৫ লক্ষের বেশি বেসামরিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। এই লড়াইয়ের মধ্যে ছিল বিমান ও রকেট হামলা এবং সীমান্তে কামানের গোলাগুলি বিনিময়।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মালি সোচেতা জানিয়েচেন, মুক্তিপ্রাপ্ত সেনারা ১৫৫ দিন থাইল্যান্ডের হেফাজতে ছিল। বুধবার এক সীমান্ত চেক পয়েন্টে সেনাদের স্থানান্তর করা হয়েছে। কম্বোডিয়ার বাত্তামবাং প্রদেশের গভর্নর সোক লু প্রত্যাবর্তনকারী সেনাদের ‘বীর সৈনিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, আটক করা সেনাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং নীতি অনুসারে আচরণ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যস্থতায় পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর ডিসেম্বরের শুরুতে সীমান্ত সংঘর্ষ আবার তীব্র আকার ধারণ করে। শনিবার যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে থাইল্যান্ড ৭২ ঘন্টা যুদ্ধবিরতি বহাল রাখলে তাদের আটক ১৮ জন সৈন্যকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়। তবে থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করার পর হস্তান্তর একদিন বিলম্বিত হয়। কম্বোডিয়া অবশ্য যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির সভাপতি মিরজানা স্পোলজারিক এই সেনাদের হস্তান্তরের তত্ত্বাবধান করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি এবং প্রত্যাবর্তনের ফলে পরিবারগুলিকে পুনরায় একত্রিত করার সুযোগ করে দেওয়া হয় এবং যৌথ বিবৃতিতে বর্ণিত প্রতিশ্রুতিগুলিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ওয়াশিংটন ২৭ ডিসেম্বরের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে যে থাইল্যান্ডের সৈন্যদের মুক্তি প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক এবং বিশ্বাস পুনর্গঠনের দিকে এক ইতিবাচক পদক্ষেপ।’