শনিবার সন্ধেয় ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ নৈশভোজের আসরে গুলি চালানোর ঘটনায় অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আঘাত লাগেনি ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সেরও। তবে এই গুলি চালানোর ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ট্রাম্পের সাংবাদিক সম্মেলনের নৈশভোজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
ওয়াশিংটনের হিলটন হোটেলে নৈশভোজে ট্রাম্প প্রশাসনের সব শীর্ষকর্তা, বহু নামজাদা সাংবাদিক ও চিত্রতারকাসহ প্রায় ২৬০০ অতিথি হাজির ছিলেন। নৈশভোজ চলাকালীন একজন সশস্ত্র ব্যক্তি নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পরপর গুলি চালায়। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প, মেলানিয়া ও জেডি ভ্যান্সকে দ্রুত একটা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। হাউস স্পিকার মাইক জনসন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এই গুলি চালানোর ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলিতে সাধারণত যেমন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে, হোয়াইট হাউসের ‘করেসপন্ডেন্টস ডিনার’–এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ততটা কঠোর ছিল না। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুসারে, নিরাপত্তা পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন। এই অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।
একই অনুষ্ঠানে এতজন বিশিষ্ট নেতার উপস্থিতি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সাধারণত, এই ধরনের বড় অনুষ্ঠানগুলিকে বিশেষ জাতীয় নিরাপত্তা অনুষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে সিক্রেট সার্ভিস। তবে, হাজার হাজার সাংবাদিক ও কর্মকর্তা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এই নৈশভোজটিকে সেই মর্যাদা দেওয়া হয়নি।
গুলি চালানোর ঘটনায় আটক হওয়া সন্দেহভাজন কোল থমাস অ্যালেন (৩১) একটা শটগান, একটা হ্যান্ডগান এবং একটা ছুরি নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের সদস্যদের আক্রমণ করাই তার লক্ষ্য ছিল। একজন সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট থাকার কারণে তিনি বেঁচে যান। বলরুমে পৌঁছনোর আগেই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। সিক্রেট সার্ভিস শুধুমাত্র বলরুম ও তার আশেপাশের এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল, পুরো হোটেলের নয়। বাইরের নিরাপত্তা ও যান চলাচল ডিসি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে ছিল। হোটেলের কেন্দ্রীয় এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা অস্পষ্ট ছিল। যদিও অভিযুক্ত সেখানে একটা ঘর ভাড়া নিয়েছিল।
এই ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ভারপ্রাপ্ত মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ বলেছেন, এটা একটা সাফল্য, নিরাপত্তা ব্যর্থতা নয়। কারণ হামলাকারীকে সময়মতো থামানো গিয়েছিল। তবে, এই ঘটনার পর বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।