ট্রেন্ডিং

Will cut off 7 Sisters from India

‘‌সেভেন সিস্টার্স’‌–কে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি, ভারতকে সতর্ক করে দিলেন বাংলাদেশের এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ

ভারত থেকে ‘‌সেভেন সিস্টার্স’–কে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিলেন বাংলাদেশের নবগঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি ভারতকে সতর্ক করে বলেছেন যে, ভারতের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন শক্তিগুলিকে আশ্রয় দিতে পারে ঢাকা, যার মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলি রয়েছে। এই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলি ভারতের ‘‌সেভেন সিস্টার্স’ বিভক্ত করার হুমকি দিচ্ছে। হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

বাংলাদেশের নবগঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।

ইনসাইড বাংলা ওয়েব ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫
Share on:

ভারত থেকে ‘‌সেভেন সিস্টার্স’–কে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিলেন বাংলাদেশের নবগঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি ভারতকে সতর্ক করে বলেছেন যে, ভারতের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন শক্তিগুলিকে আশ্রয় দিতে পারে ঢাকা, যার মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলি রয়েছে। এই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলি ভারতের ‘‌সেভেন সিস্টার্স’ বিভক্ত করার হুমকি দিচ্ছে। হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি আবদুল্লাহর মন্তব্যকে ‘‌দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং বিপজ্জনক’‌ বলে অভিহিত করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে, ভারত এই ধরনের কার্যকলাপে চুপ থাকবে না।

ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে আবদুল্লাহ দাবি করেন, ‘‌বাংলাদেশ ‌বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং ভারতবিরোধী শক্তিকে আশ্রয় দেবে।’‌ তিনি সতর্ক করে বলেন যে, এই ধরনের সমর্থন ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। আবদুল্লাহর এই মন্তব্য সমাবেশে আগত শ্রোতারা তুমুল করতালির মাধ্যমে ব্যাপক সমর্থন জানায়। ভারতের ‘‌সেভেন সিস্টার্স’‌ বলতে বোঝায় অরুণাচল প্রদেশ, অসম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরা। এর মধ্যে চারটি রাজ্য, অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম বাংলাদেশের সঙ্গে স্থল সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে, যা এই অঞ্চলের কৌশলগত সংবেদনশীলতা তুলে ধরে।

বাংলাদেশের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে আবদুল্লাহর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘‌আমি ভারতকে স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, যদি তুমি এমন শক্তিকে আশ্রয় দাও যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, সম্ভাবনা, ভোটাধিকার এবং মানবাধিকারকে সম্মান করে না, তাহলে বাংলাদেশও এর জবাব দেবে।’‌ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে অশান্ত করার প্রচেষ্টার আঞ্চলিক প্রভাব আরও ব্যাপক হবে। আবদুল্লাহ ভারতকে সতর্ক করে বলেন, ‘‌যদি বাংলাদেশ অশান্ত হয়, তাহলে প্রতিরোধের আগুন তার সীমানা অতিক্রম করে ছড়িয়ে পড়বে।’‌ ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, ‘‌স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও বাংলাদেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য শকুনরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’‌

এদিকে, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলকে বাংলাদেশের সঙ্গে একীভূত করার ধারণাটিকে ‘‌দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং বিপজ্জনক’‌ বলে অভিহিত করেছেন। এবং সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ভারত এই ধরনের কার্যকলাপ বরদাস্ত করবে থাকবে না। লামডিংয়ে এক অনুষ্ঠানের মাঝে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘‌গত এক বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে বারবার বিবৃতি আসছে যে, উত্তর–পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিকে আলাদা করে বাংলাদেশের অংশ করা উচিত। এই ধরণের বক্তব্য বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়ার সামিল।’‌


আরও পড়ুনঃ বন্ডি সৈকতে সন্ত্রাসী হামলায় ৩ ভারতীয় ছাত্র গুলিবিদ্ধ, হামলাকারী সাজিদ হায়দরাবাদ ছেড়েছিল ২৭ বছর আগে


ভারত আগেই বাংলাদেশি ভূখণ্ডকে উত্তর–পূর্বে সক্রিয় জঙ্গি এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির নিরাপদ আশ্রয়স্থল, ট্রানজিট রুট এবং লজিস্টিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করেছে। বিশেষ করে ১৯৯০–এর দশকের শেষের দিকে এবং ২০০০–এর দশকের গোড়ার দিকে। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সেই সময়কালে ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা (এনএলএফটি) এবং অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স (এটিটিএফ)–এর মতো সংগঠনগুলিকে সীমান্তের ওপারে ক্যাম্প এবং সহায়তা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানিয়েছে যে, এই গোষ্ঠীগুলির ক্যাডাররা প্রায়শই ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে এড়াতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সীমান্তের ওপার থেকে প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র সংগ্রহের সুবিধা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। উত্তর–পূর্বের বাইরে, বাংলাদেশকে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে ইসলামপন্থী চরমপন্থী নেটওয়ার্কগুলির ঘাঁটি হিসাবেও উল্লেখ করা হয়েছিল। হরকত–উল–জিহাদ–আল–ইসলামী (হুজি) এবং জামাত–উল–মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)–এর মতো গোষ্ঠীগুলিকে ভারতীয় সংস্থাগুলি মৌলবাদে ভূমিকা রাখার এবং পূর্ব ভারতে লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের জন্য চিহ্নিত করেছিল।

তবে ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশ ভারতকে লক্ষ্য করে বিদ্রোহী ও চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে দমন অভিযান শুরু করে, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সহযোগিতা তৈরি হয়।


আরও পড়ুনঃ

অন্যান্য খবর

Inside Bangla is a comprehensive digital news platform. This web portal started its humble journey. Its courageous journalism, presentation layout and design quickly won the hearts of people. Our journalists follow the strict Journalism ethics.

Copyright © 2026 Inside Bangla News Portal . All Rights Reserved. Designed by Avquora