শনিবার দুপুরে কলকাতার কসবার এক হোটেলের ঘর থেকে উদ্ধার হল যুবকের রক্তাক্ত দেহ। মৃত যুবকের নাম আদর্শ লোসাল্কা। তাঁর বাড়ি বীরভূমে। মৃত যুবকের শরীরে কোনও পোশাক ছিল না। এই দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কী ভাবে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। মৃতের দুই সঙ্গী উধাও। তাঁদের মধ্যে একজন মহিলা। মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে কসবা থানার পুলিশ।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ কসবার রাজডাঙার এক হোটেলে তিনজন একটা ঘর ভাড়া নেন। দুজন পুরুষ ছাড়াও ছিলেন একজন মহিলা। বেশ কিছুক্ষণ তিনজন ওই ঘরে ছিলেন। এরপর গভীর রাতে এক যুবক ও মহিলা হোটেল ছেড়ে চলে যান। তারপর তাঁরা আর ফেরেননি। শনিবার আদর্শ ঘর থেকে বার না হওয়ায় হোটেল কর্মীরা ডাকাডাকি শুরু করেন৷ এরপর দরজা খুলে হোটেল কর্মীরা দেখেন ঘরের মধ্যে আদর্শ পড়ে রয়েছেন৷ সঙ্গে সঙ্গে কসবা থানায় খবর দেওয়া হয়৷ পুলিশ ছুটে আসে। পুলিশ এসে দেখে আদর্শ মারা গেছেন।
এরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ফরেন্সিক টিম৷ ডগ স্কোয়াডও নিয়ে যাওয়া হয়। কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে যান৷ পরে পৌঁছে যান কলকাতা পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) রূপেশ কুমার। তিনি পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন৷ রূপেশ কুমার জানান, আদর্শের নাকের নীচে রক্তের দাগ রয়েছে। শরীরে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে৷ প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে তাঁকে খুন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। তদন্তের স্বার্থে এই ব্যাপারে আর কিছু জানাতে চাননি রূপেশ কুমার৷
আরও পড়ুনঃ চাপড়ার বিএলও রিঙ্কু তরফদারের আত্মহত্যা, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে দায়ী করে চিঠি সাংসদ মহুয়া মৈত্রর
মৃত যুবক আদর্শ লোসাল্কার বয়স ৩৩ বছর। বাড়ি বীরভূমের দুবরাজপুর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাজারপাড়া এলাকায়। স্কুলস্তরের পড়াশোনার পাট চুকিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় চলে আসেন। পেশায় ছিলেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। ৪–৫ বছর আগে কলকাতারই এক নামী সংস্থায় চাকরি পান। তিন বন্ধুর সঙ্গে ঘর ভাড়া নিয়ে বাঙ্গুর অ্যাভিনিউয়ে থাকতেন আদর্শ। সেখান থেকেই সল্টলেকের অফিসে যাতায়াত করতেন ওই যুবক। বাবা বিমল কুমার জানান, শুক্রবার রাতে তাঁকে আদর্শ ফোন করে বলেন নিউ আলিপুরে যাচ্ছেন।
কিন্তু নিউ আলিপুর না গিয়ে অন্য দুই সঙ্গীর সঙ্গে পরিচয়পত্র দেখিয়ে হোটেলে রুম বুক করেন। সেই পরিচয়পত্র সঠিক কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশ সূত্র থেকে জানা গেছে, শনিবার রাত দেড়টা–দুটো নাগাদ হোটেল থেকে আদর্শর সেই মহিলা এবং পুরুষ সঙ্গী বেরিয়ে যান। হোটেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। হোটেলর কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আদর্শর মৃত্যু মনে করিয়ে দিচ্ছে পার্ক স্ট্রিটের ঘটনা। গত মাসে পার্ক স্ট্রিট এলাকার রফি আমেদ কিদোয়াই রোডের একটা হোটেলের ঘরের বক্সখাটের মধ্যে থেকে রাহুল লাল নামে এক যুবকের পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়েছিল। ২২ অক্টোবর রাহুল এবং তাঁর এক বন্ধু হোটেলের একটা ঘর ভাড়া নেন। দুদিন পর হোটেলের ওই ঘরটি ভাড়া নেন অন্য একজন। নতুন আবাসিক ঘরের তালা খুলতেই পচা গন্ধ পান। সঙ্গে সঙ্গে তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানান। খোঁজাখুঁজি করতেই গন্ধের সন্ধান পান হোটেল কর্মীরা। পুলিশ এসে ওই ঘরের বক্সখাটের মধ্যে রাহুলের পচাগলা দেহ উদ্ধার করে।