কাজের চাপে অতিষ্ঠ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের দায়িত্বে থাকা বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও)। বেষ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কয়েকজন আবার আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছেন। এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনেকেই সরব। এই পরিস্থিতিতে বিএলও–দের উৎসাহ দিতে পারিশ্রমিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি ডেটা এন্ট্রির জন্য ইন্টারনেট খরচের আলাদা টাকাও দেবে।
বিএলও–দের প্রথমে ৬ হাজার টাকা করে পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। পরে তা বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়। বিএলও–দের কাজের চাপ বুঝতে পেরে আবার পারিশ্রমিক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ১৮ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। বিএলও–দের নিজের ফোনের ইন্টারনেট ডেটা খরচ করে এনুমারেশন ফর্ম ডিজিটালাইজেশন করতে হচ্ছে। ইন্টারনেটের জন্য যে ডেটা খরচ হচ্ছে, সে বাবদ অর্থও পাবেন বিএলও–রা।
শনিবার একগুচ্ছ অভিযোগ নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে হাজির হন ভোটকর্মী এবং বিএলও ঐক্যমঞ্চের প্রতিনিধিরা। রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালে সঙ্গে বৈঠকের পর সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানান, বিএলও–দের পারিশ্রমিক বাড়িয়ে ১৮ হাজার টাকা করা হচ্ছে। রাজ্যে কাজের চাপে বিএলও–দের অসুস্থ হয়ে পড়া কিংবা মৃত্যুর বিষয়টিও তিনি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দৃষ্টিগোচর করেন। এই ব্যাপারে স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিএলও–দের জন্য উদ্বিগ্ন। এই ব্যাপারে তিনি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছেন। বিএলও–দের চাপের কথা মাথায় রেখে এসআইআর স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন।’
আরও পড়ুনঃ লক্ষ্মী ভান্ডারের টাকার জন্য চাপ, না দেওয়ায় আপত্তিকর ছবি ভাইরালের হুমকি প্রেমিকের, আত্মহত্যা গৃহবধুর
আরও পড়ুনঃ কসবার হোটেল থেকে উদ্ধার যুবকের রক্তাক্ত দেহ, নিখোঁজ মহিলা ও পুরুষসঙ্গী, রহস্য ঘনীভূত
এদিকে, মৃত বিএলও পরিবারবর্গকে ৫০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে ভোটকর্মী এবং বিএলও ঐক্যমঞ্চের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে। এছাড়াও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ করতে গিয়ে যে বিএলও–রা অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাঁদের চিকিৎসার খরচ বহন করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, আগামী ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। এই খসড়া ভোটার তালিকায় একমাত্র তাঁদেরই নাম থাকবে যাঁরা এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করে জমা দিয়েছেন। রাজ্যের পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস, পৌরসভা, পুরসভা, মহকুমা শাসকের দফতর এবং জেলাশাসকের দফতরে এই তালিকা সকলের জন্য টাঙানো হবে। এর পাশাপাশি সিইও–র ওয়েবসাইটেও দেখা যাবে খসড়া ভোটার তালিকা। একবারেই বুথ স্তরে প্রত্যেকের নাম প্রকাশ করা হবে। তবে এই তালিকার পাশাপাশি আরেকটি তালিকা প্রকাশ করা হবে যেখানে আরও চারটি ভাগ থাকবে। মৃত ভোটার, অনুপস্থিত ভোটার, ভুয়ো ভোটার এবং স্থানান্তরিত ভোটারের নামের তালিকা। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাই এই তালিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন সকলে। তবে এই তালিকা চূড়ান্ত নয়। এই তালিকায় যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, নামের বানান ভুল আছে, ঠিকানা ভুল আছে সেই সব কিছু সংশোধন যেমন করা যাবে ঠিক তেমনই যদি কেউ চান নতুনভাবে নাম এই ভোটার তালিকায় তুলতে চান, তাহলে তাঁকে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে আগামী ৮ জানুয়ারির মধ্যে জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পাবে ৭ ফেব্রুয়ারি। এই ভোটার তালিকাতেই আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হবে পশ্চিমবঙ্গে।