বরাবরই পাহাড়কে ভালবাসেন সেনবাবু। স্বপ্ন ছিল নিজের বাড়িতে বসে ধোঁয়া ওঠা চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার। স্বপ্ন দেখতেন পাহাড়ে নিজের একটা বাড়ি বানানোর। শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন সফল। পাহাড়কে ভালবেসে পাহাড়ে নিজের একটা বাড়িই বানিয়ে ফেললেন সেন বাবু। এমন একটা বাড়ি, যেখানে বারান্দায় বসে সারাদিন মনের সুখে কাঞ্চনজঙ্ঘার মায়াবি সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
সেন বাবুর পাহাড়ের এই বাড়িটি রিশপে, কালিম্পং জেলায়। লাভা থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে। বাড়িটির পোষাকি নাম ‘Golden Sojourn Homestay’। প্রতিটা ঘরে বসেই উপভোগ করা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য। আধুনিকতার মোড়কে তৈরি এই ‘হোমস্টে’। রয়েছে সব রকমের আধুনিক ব্যবস্থা। শুধুই আধুনিকতার ছোঁয়া! আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। সঙ্গে বাঙালিয়ানার সুবন্দোবস্ত।
‘Golden Sojourn Homestay’–তে রয়েছে দুটি কটেজ ও ৬টি ঘর। প্রতিটার নাম রবীন্দ্র কাব্য গ্রন্থের নামানুসারে। কটেজ দুটির নাম অতিথি ও ক্ষণিকা। ঘরগুলি বলাকা, সোনারতরী, মানসী, সেঁজুতি, গীতাঞ্জলি ও পুনশ্চ। ঘরের অন্দরসজ্জায় কোনটিতে পিংলার পটচিত্র, কোনটায় আবার শান্তিনেকেতনি ঘরানা। প্রভাতের প্রথম আলোর ছটা যখন বরফাবৃত কাঞ্চনজঙ্ঘায় পড়ে অপূর্ব মায়াবি দৃশ্য তৈরি করে, সেই সময় দিগন্তের রূপ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কানে ভেসে আসে রবীন্দ্র সঙ্গীতের সুর। ‘হোমস্টে’র অভ্যর্থনা কক্ষে রয়েছে বিভিন্ন বইয়ের সম্ভারযুক্ত লাইব্রেরি। এছাড়াও রয়েছে ছোট বড় সকলের জন্য খেলাধুলার সামগ্রী। আলোকচিত্রে আগ্রহীদের জন্য ‘এসএলআর’ ক্যামেরা। বিশেষ প্রয়োজনের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা।
‘হোমস্টে’–তে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আপনাকে গলা ভেজানোর জন্য চিন্তা করতে হবে না। থাকবে ‘ওয়েলকাম ড্রিংকস’। প্রতিটা রুমে টয়লেট কিট হিসাবে পরিপাটি তোয়ালে, সাবান, শ্যাম্পু তো থাকছেই, এছাড়াও সেনবাবু ব্যবস্থা করে রেখেছেন চিরুনি, টুথব্রাশ ও পেষ্ট, সঙ্গে ময়েশ্চারাইজার।
পর্যটকদের খাওয়া–দাওয়ার দিকেও সজাগ নজর সেনবাবুর। খাদ্যরসিক বাঙালির জন্য মধ্যাহ্নভোজে বাসমতি চালের সাদা ভাত, গাওয়া ঘি, বেগুন ভাজা, বিউলির ডাল কিংবা মাছের মাথা দিয়ে মুগ ডাল। পর্যটকদের স্বাদ অনুযায়ী ভেজ মুগ ডাল কিংবা মুসুর ডাল, সঙ্গে আলু পোস্ত, আলু ফুলকপির রসা, আলু পটলের ডালনা অথবা মাছের মাথা দিয়ে বাঁধাকপি। এছাড়াও জিরে বাটা দিয়ে কাতলা কিংবা দই কাতলা অথবা কাতলা কালিয়া। পছন্দ অনুযায়ী সর্ষে পাবদা, আলু বেগুন সহযোগে কাতলা, চাটনি ও পাপড়। খাদ্যরসিক বাঙালির একেবারে পছন্দের মেনু।
বিকালে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপূর্ব মায়াবি সোন্দর্য দেখতে দেখতে হাতে গরম ভেজ পকোড়া ও চা পেলে তো কোনও কথাই নেই। তবে গোধুলিলগ্ন আরও মুখোরোচক করতে ‘Golden Sojourn Homestay’–র কিচেনে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই থেকে শুরু করে ফিস ফিঙ্গার, চিকেন পকোড়া, চিকেন নাগেটসসহ নানা রকম মেনুর ব্যবস্থা রয়েছে। নৈশভোজেও হরেকরকম মেনু। পর্যটকদের চাহিদা অনুসারে থাকছে সাদা ভাত, ফ্রায়েড রাইস, পিস পোলাও, হাত রুটি, ডাল, সবজি, চিকেন কষা, চিলি চিকেন।
প্রাত:রাশে সাহেবিয়ানার পাশাপাশি বাঙালির পছন্দের মেনু। বুফে সিস্টেমে শুরু করতে পারেন গজ ওঠা ভেজানো ছোলা–বাদাম দিয়ে। তারপর লুচি–সাদা আলুর তরকারি, পাউরুটি–বাটার–জ্যাম–কলা, দুধ–কর্ণফ্লেক্স–কলা। শেষপাতে মিষ্টি। পর্যটকদের চাহিদা অনুসারে ডালিয়ার খিচুড়ি, দই–চিঁড়ে, ওটসেরও ব্যবস্থা করে থাকে।
অবসর সময় কাটোনোর কথা ভাবছেন? না, পর্যটকদের এই নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনও ফুরসৎ রাখেননি সেনবাবু। শিশুদের জন্য খেলনা গাড়ি থেকে সফট টয়েজ, ড্রয়িং সিট–ক্রেয়ন রেখেছেন, তেমনই বড়দের জন্য ব্যবস্থা করে রেখেছেন উনো গেম, দাবা। আর গোটা পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে চান? রয়েছে লুডো।
অতিথিদের সুখ–সাচ্ছন্দ্য দেখভালের জন্য অন্য কারও ওপর ভরসা করেন না সেনবাবু। অধিকাংশ সময়ই নিজেই হোমস্টে–তে থাকেন। অতিথি আপ্যায়নের দেখভাল করেন নিজেই। অত্যন্ত বিনম্র স্বভাবের সেনবাবু বলছিলেন, ‘পাহাড়ে হোমস্টে তো অনেক রয়েছে। আমরা একটু অন্যভাবে অতিথিদের সেবা করতে চাই। পাহাড়ে এসেও যেন অতিথিদের মনে হয় নিজের নিজের বাড়িতেই রয়েছেন। তাই বাঙালিয়ানার সবরকম বন্দোবস্ত রাখার চেষ্টা করেছি।’
একটা কথা বলতে পারি, কাঞ্চনজঙ্ঘার অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করতে চলে যান ‘Golden Sojourn Homestay’–তে। যাওয়ার আগে সেনবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে ভুলবেন না।
আগেভাগেই যোগাযোগ করে নিন এই নম্বরে
‘Golden Sojourn Homestay’
62900 98162
9330802462