ঘরের বারান্দায় বসে গঙ্গার সৌন্দর্য উপভোগ। অন্যদিকে তাকালেই চোখে পড়বে বোটার্নিক্যাল গার্ডেনের সবুজের সমারোহ। এইরকম পরিস্থিতি যদি তৈরি হয়? হ্যাঁ, সেই সুযোগ এনে দিচ্ছে ইডেন রিয়েলিটি গ্রুপ। গঙ্গার পাশে তৈরি করছে বিলাসবহুল আবাসিক টাওয়ার, ‘ইডেন দেবপ্রয়াগ’। পাঁচতারা হোটেলের মতো এই আবাসিক টাওয়ারের জন্য বিনিয়োগ করছে ৫০০০ কোটি টাকা।
বিলাসবহুল এই আবাসনে থাকবে ৫টি টাওয়ার। বাংলো, সারি আবাসন ধারণা নিয়েই তৈরি হচ্ছে এই আবাসন প্রকল্প। ‘ইডেন দেবপ্রয়াগ’–এ থাকছে পাঁচতারা আতিথেয়তা প্রকল্প এবং বাণিজ্যিক ভবন, যা কলকাতার সবচেয়ে বিলাসবহুল নদীতীরবর্তী টাউনশিপ। টাওয়ারের লাগোয়া থাকবে গঙ্গার ঘাট। আবাসনের লনের চেয়ারে বসে উপভোগ করা যাবে গঙ্গার সৌন্দর্য।
‘ইডেন দেবপ্রয়াগ’ শহরের একমাত্র আবাসিক প্রকল্প হিসেবে একটু অন্যরকম, যা গঙ্গার দক্ষিণে অবস্থিত। এই আবাসন প্রকল্পে থাকছে ১.৮৫ লক্ষ বর্গফুট নদী তীরবর্তী ল্যান্ডস্কেপ পোডিয়াম, ৭৫,০০০ বর্গফুট পোডিয়াম ক্লাব এবং ইনফিনিটি সুইমিং পুলসহ একটা টেরেস ক্লাব। আবাসনের বাসিন্দারা বারান্দা থেকে একটা বেনারস শৈলীর গঙ্গা ঘাট এবং নদী ও শহরের আকাশরেখার ২৭০ ডিগ্রি বিস্তৃত দৃশ্য দেখতে পাবেন।
আবাসনের টাওয়ারগুলি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে প্যানোরমিক দৃশ্য সর্বাধিক দেখা যায়, যেখানে বাসিন্দারা একই বারান্দা থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত উভয়ই উপভোগ করতে পারেন। আবাসনগুলির পরিকল্পনা এমনভাবে করা হয়েছে, যার সম্মুখভাগ দীর ছন্দ অনুকরণ করে এবং ঘরে শীতল গঙ্গা বাতাস প্রবেশ করবে। আবাসনগুলি প্রাকৃতিক আলো এবং ক্রস ভেন্টিলেশন সর্বাধিক করার জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে। টেরেসে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার স্থান, জলপ্রপাতের বৈশিষ্ট্যসহ একটা ইনফিনিটি পুল, যোগ লন, ধ্যানের ডেক, সামাজিক অঞ্চল এবং প্রবীণ নাগরিকদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে।
ইডেন রিয়েলিটি গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আর্য সুমন্ত বলেন, ‘আমরা প্রিমিয়াম নদীতীরবর্তী আবাসন প্রকল্পের জন্য ৫,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছি। যার মধ্যে থাকবে বিলাসবহুল আবাসিক টাওয়ার, বাংলো, সারি আবাসন ধারণা, পাঁচতারা আতিথেয়তা প্রকল্প এবং বাণিজ্যিক ভবন। এই সিরিজের প্রথমটি হবে ইডেন দেবপ্রয়াগ যা কলকাতার সবচেয়ে বিলাসবহুল নদীতীরবর্তী টাউনশিপ। এই টাউনশিপে মোট ৫টি টাওয়ার থাকবে। ২০২৯ সালের মধ্যে প্রথম টাওয়ারের কাজ শেষ হবে।’
প্রকল্পের বিশেষত্ব সম্পর্কে ইডেন রিয়েলিটি যুগ্ম ম্যানেজিং ডিরেক্টর কুমার সাত্যকি বলেন, ‘এই স্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাদের গভীর নকশার দৃষ্টিভঙ্গিকে অনুপ্রাণিত করেছে। যখন আমরা প্রথম গঙ্গা এবং বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশে এই স্থানটি পরিদর্শন করি, তখন আমাদের মনে হয়েছিল এটা প্রচলিত উন্নয়নের চেয়েও বেশি প্রাপ্য। বেনারসের প্রয়াগরাজের ধারণা থেকেই ইডেন দেবপ্রয়াগ নাম দেওয়ার কথা মাথায় এসেছে। যেহেতু প্রয়াগের মতো এটাও গঙ্গার তীরে অবস্থিত।’
২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইডেন রিয়েলিটি গ্রুপ গ্রাহক কল্যাণের কথা চিন্তাভাবনা করে পরিকল্পিত উন্নয়ন তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ৭১ লক্ষ স্কোয়ার ফুটের নির্মাণ কার্য শেষ করেছে। এছানা ৬৫ লক্ষ স্কোয়ার ফুট নির্মাণ কাজ চলছে। এছাড়া ৭,৮০০ টিরও বেশি আবাসন সুখী পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে।