তেহরিক–ই–ইনসাফ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে গ্রেফতার করেছে লাহোর পুলিশ। জিমখানা যাওয়ার পথে বাড়ির সামনে থেকে তাঁকে জোরপূর্বক গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পরে আলিমা খানকে কোট লাখপত জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর গাড়িটি মোজাং পুলিশ স্টেশনে আটকে রাখা হয়েছে।
জেলে ইমরানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরেই সোচ্চার তিনি। সম্প্রতি তিনি এই বিষয়ে মুখ খুলেছিলেন। এর মাত্র কয়েকদিন পরেই শাহবাজ সরকারের পুলিশ এই পদক্ষেপ নেয়। ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে তেহরিক–ই–ইনসাফ দলের কর্মীদের সঙ্গে ২৭শে সেপ্টেম্বর আদিয়ালা জেলের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করার পরিকল্পনা করছিলেন আলিমা খান। বিক্ষোভ সমাবেশের ওপর রাশ টানতেই দমন–পীড়ন নীতি গ্রহন করল পাকিস্তান সরকার।
‘জনশৃঙ্খলা রক্ষা’ বিধিমালায় লাহোরের ডেপুটি কমিশনারের জারি করা এক আদেশ অনুযায়ী আলিমা খানকে ৩০ দিনের জন্য আটক করা যেতে পারে। আদেশে বলা হয়েছে, রবিবার লাহোরের ডিসি–র সভাপতিত্বে জেলা গোয়েন্দা কমিটির এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে শহরে শান্তি বজায় রাখার জন্য ইমরান খানের বোন আলিমা খানমকে আটক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিক্ষোভের আশঙ্কায় ইসলামাবাদ পুলিশ নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
আরও পড়ুনঃ ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে বাড়ির সামনে থেকে জোরপূর্বক গ্রেফতার করল লাহোর পুলিশ
বিক্ষোভ চলাকালে যে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রচেষ্টা ব্যর্থ করার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা প্রণয়নে তারা ইসলামাবাদের কেন্দ্রীয় পুলিশ কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে আয়োজন নিয়ে আলোচনা হয়। রাজধানীর পুলিশ বাহিনী বিক্ষোভগুলি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে, যার মধ্যে তেহরিক–ই–ইনসাফ দলের প্রস্তুতি এবং এর নেতা, কর্মী ও কর্মীদের কার্যকলাপের বিবরণও রয়েছে।
শনিবার ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের কারণে একটা মেডিকেল চেকআপ করানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস)-এর একটা বিশেষ চিকিৎসক দল খানের মেডিকেল চেকআপটি সম্পন্ন করেছে। ইমরানের রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও চোখের পরীক্ষাসহ পুঙ্খানুপুঙ্খ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। পিআইএমএস–এর দলটিকে পরীক্ষার সময় আদিয়ালা জেল হাসপাতালের চিকিৎসাকর্মীরাও সহায়তা করেন। চিকিৎসার জন্য ইমরানকে বেশ কয়েকবার পিআইএমএস-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।