কম্বোডিয়ার সঙ্গে আবার নতুন করে সীমান্ত সংঘর্ষ শুরু হয়েছে থাইল্যান্ডের। সোমবার ভোরে সীমান্তে তুমুল গোলাগুলি শুরু হয়েছে। দুই পক্ষের গোলাগুলিতে একজন থাই সৈন্য নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সীমান্তে সংঘাতের জন্য দুই দেশই একে অপরকে দোষারোপ করছে। মারাত্মক সংঘর্ষের পর কম্বোডিয়া সীমান্তে বিমান হামলা শুরু করেছে থাইল্যান্ড।
দীর্ঘদিন ধরেই কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে সমস্যা চলছিল। জুলাইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু থাইল্যান্ডের অভিযোগ সেই যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘন করে কম্বোডিয়া। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল, থাই সৈন্যকে পঙ্গু করে দেওয়ার জন্য সীমান্তে ল্যান্ডমাইন পুঁতে রেখেছিল কম্বোডিয়া। কম্বোডিয়া অবশ্য নতুন করে মাইন পুঁতে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং থাইল্যান্ডকে অক্টোবরের চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। যে চুক্তি জুলাই মাসে পাঁচ দিনের যুদ্ধ শেষ করার জন্য ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল।
যদিও থাইল্যান্ডের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে সোমবার ভোরে উবোন রাতচাথানি প্রদেশে কম্বোডিয়ান সৈন্যরা থাই বাহিনীর ওপর গুলি চালায়। কম্বোরিয়ার সেনারদের গুলিতে একজন থাই সেনা নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন। থাই সেনাবাহিনীর মুখপাত্র উইনথাই সুভারি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সেনাবাহিনী রিপোর্ট পেয়েছে যে, থাই সৈন্যদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে। যার ফলে একজন সৈন্য নিহত এবং চারজন আহত হয়েছে।’
আরও পড়ুনঃ মন্দিরে যাওয়ার পথে ৮০০ ফুট গভীর খাদে গাড়ি, মহারাষ্ট্রের নাসিকে একই পরিবারের ৬ জনের মৃত্যু
অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মালি সোচেতা সীমান্তে গোলাগুলির দায় থাই সেনাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, ‘থাই বাহিনী সোমবার ভোরে সীমান্তবর্তী প্রদেশ প্রিয়াহ ভিহিয়ার এবং ওদ্দার মিঞ্চেতে কম্বোডিয়ান সেনাদের ওপর প্রথমে আক্রমণ শুরু করে। কম্বোডিয়া কোনও প্রতিশোধ নেয়নি।’
বিতর্কিত সীমান্ত বসতি সা কাইও তাদের প্রদেশের বান নং ইয়া কাইও গ্রামের অংশ। এমনই বরাবর দাবি করে আসছে থাইল্যান্ড। কিন্তু কম্বোডিয়ার দাবি, এটা বান্তে মিয়ানচে প্রদেশের প্রে চান গ্রামের অংশ। এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ চলে আসছে। জুলাই মাসের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪৮ জন নিহত এবং প্রায় আনুমানিক ৩ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। এই সংঘর্ষে রকেট হামলা, ভারী কামান এবং বিমান হামলা করা হয়েছিল। বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ সীমান্ত সংঘর্ষের পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। ১৬ জুলাই থেকে বেশ কয়েকবার ল্যান্ড মাইন বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন থাই সেনা নিহত ও গুরুতর আহত হয়েছেন।