এবছর ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫কে কলকাতা ম্যারাথন। ঐতিহাসিক এই ম্যারাথনকে সামনে রেখে প্রতি বছরই দাতব্য কাজের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়। দশম সংস্করণের দৌড় শুরু হওয়ার আগে টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫কে কলকাতা এখনও ৩২.১২ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করেছে। এগিয়ে এসেছে ৪৩টি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, ২৬টিরও বেশি ব্যক্তিগত তহবিল সংগ্রহকারী এবং ১০টি কর্পোরেট সংস্থা। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত এই অর্থ সংগ্রহের কাজ চলবে।
২০১৪ সাল থেকে ইমপ্যাক্ট ৩৬০ ফাউন্ডেশন ধারাবাহিকভাবে এই অর্থ সংগ্রহের কাজ করে আসছে। এই প্ল্যাটফর্মটি উত্তর–পূর্ব এবং পূর্ব ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে এমন ৭৫–রও বেশি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছ থেকে ৪.৭০ কোটিরও বেশি টাকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সংগঠকদের আশা ৩ জানুয়ারির মধ্যে অর্থ সংগ্রহের পরিমান আরও বাড়বে।
এবারের টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫কে কলকাতার জনহিতকর অভিযান সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে, ইমপ্যাক্ট ৩৬০ ফাউন্ডেশনের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার দেবাশিষ রায় চৌধুরি বলেন, ‘এই বছর, টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫কে পার্থক্যের দশক উদযাপন করছে। ১০ বছর ধরে বিভিন্ন বয়স এবং ক্ষমতার অংশগ্রহণমূলক খেলাধুলায় দুর্দান্ত ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে এর জনহিতকর প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ সামাজিক কাজে ব্যাপক অংশগ্রহণকে অনুপ্রাণিত করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইভেন্টের জনহিতকর অংশীদার হিসেবে, কর্পোরেট, সামাজিক প্রভাবশালী সংস্থা এবং ব্যক্তিগত দাতাদের কাছে আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। একইসঙ্গে আমরা গত কয়েক বছরের অবদানের মাইলফলক অতিক্রম করেছি, যা সম্মিলিত আবেগকে প্রতিফলিত করে।’
আরও পড়ুনঃ আইপিএলের নিলামে সবথেকে মূল্যবান বিদেশি গ্রিন, চমক দুই স্বদেশি ‘আনক্যাপড’ কার্তিক শর্মা ও প্রশান্ত বীরের
মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে শীর্ষস্থানীয় তহবিল সংগ্রহকারীরা তাঁদের যাত্রা এবং অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। বিভিন্ন এনজিও কর্তা, কর্পোরেট কর্তা ও বিভিন্ন ব্যক্তি তাঁদের প্রেরণা এবং তহবিল সংগ্রহের প্রভাব সম্পর্কে আলোকপাত করেন। কীভাবে সম্মিলিত পদক্ষেপ অর্থপূর্ণ সামাজিক পরিবর্তন আনতে পারে সে বিষয়টিও তুলে ধরেন। গঙ্গা বসু বলেন, ‘আমি খুব কমই দৈনন্দিন কাজ করতে পারতাম। কিন্তু এখন আমি কেবল সব ঘরোয়া কাজই করি না, যোগব্যায়াম, ব্লক প্রিন্টিংয়ের মতো বিভিন্ন ক্লাসও করি। আমি নিশ্চিত যে ভবিষ্যতে আমি স্বাধীন হতে পারব। এবং এত বড় প্ল্যাটফর্মে থাকতে পেরে আমি খুব উত্তেজিত। আমি দৌড়ে অংশ নেব।’
যেসব বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, টাটা মেডিকেল সেন্টার, দক্ষিণ প্রয়াস, কনসার্ন ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন, ব্লু স্টার ফাউন্ডেশন, মানব উন্নয়ন কেন্দ্র, ইমপ্যাক্ট ৩৬০ ফাউন্ডেশন, লিটল বিগ হেল্প, এবিকে মেমোরেবল ট্রাস্ট, নিউ লাইট প্রভৃতি। কর্পোরেট সংস্থার মধ্যে রয়েছে সালারপুরিয়া প্রোপার্টিজ প্রাইভেট লিমিটেড, টিআইটিএএন, ব্লু স্টার লিমিটেড, ডিসিবি ব্যাঙ্ক, এম জংশন, গেইনওয়েল, টাটা স্টিল ডাউনস্ট্রিম প্রোডাক্টস লিমিটেড, টিআইএল ট্র্যাক্টর, এভারেডি। ব্যক্তিগতভাবে এগিয়ে এসেছেন ঝিলাম সরকার, আইনজীবী সিদ্ধান্ত ঘোষ, হিয়া চ্যাটার্জী, মোহাম্মদ লুৎফুল কবির, সারা তাবিশ প্রমুখ।