রাজ্যের স্কুল ও গণশিক্ষা বিভাগের প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে অমানবিক পরিস্থিতিতে পড়তে হল ওড়িশার ১৮ জন কুস্তিগীরকে। কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহনের জন্য ট্রেনের টয়লেটের কাছে বসে যাতায়াত করতে বাধ্য হলেন ওড়িশার ক্রীড়াবিদরা। কুস্তিগীরদের এই দলটি ৬৯ তম জাতীয় স্কুল কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে উত্তরপ্রদেশে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় টিকিট ছাড়াই সাধারণ ট্রেনের কামরায় ভ্রমণ করতে বাধ্য হয়েছে বলে অভিযোগ।
১০ জন ছেলে এবং ৮ জন মেয়ে নিয়ে গঠিত এই দলটিকে জাতীয় স্তরের টুর্নামেন্টে পাঠানো হয়েছিল। টিকিট ছাড়াই তাদের সাধারণ বগিতে ভ্রমণ করতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগ, তীব্র শীতের মধ্যে ক্রীড়াবিদদের ট্রেনের টয়লেটের কাছে বসিয়ে রাখা হয়েছিল, যা তাদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং মর্যাদা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। জানা গেছে, ফেরার সময়ও কুস্তিগীরদের একই রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। যাওয়া ও আসা, কোনও সময়েই কুস্তিগীরদের জন্য কোনও নিশ্চিত টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়নি।
কুস্তিগীরদের এই ভ্রমণের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। শীতের ঠান্ডায় ট্রেনের টয়লেটের পাশে বসে থাকা অ্যাথলিটদের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় গোটা ওড়িশা জুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ক্রীড়াপ্রেমী, অভিভাবক এবং জনসাধারণ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন যে, জাতীয় মঞ্চে রাজ্যের প্রতিনিধিত্বকারী তরুণ ক্রীড়াবিদদের কীভাবে মৌলিক ভ্রমণ ব্যবস্থা থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছিল। এই ঘটনাটি স্কুল ক্রীড়া ব্যবস্থার মধ্যে ক্রীড়াবিদদের কল্যাণ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এমনও অভিযোগ উঠেছে যে, যাত্রার সময় ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে বাবা–মা কিংবা অভিভাবকদের যেতে দেওয়া হয়নি, যা তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে উদ্বেগ আরও তীব্র করে তুলেছে। ক্রমবর্ধমান সমালোচনা এবং জবাবদিহির দাবি সত্ত্বেও, স্কুল ও গণশিক্ষা বিভাগ এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।