ভারতীয় ব্যাডমিন্টনে একটা যুগের অবসান। কোর্টকে চিরতরে বিদায় জানালেন অলিম্পিকে পদকজয়ী শাটলার সাইনা নেহাল। এক পডকাস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। চোটের জন্যই অবসর নিতে বাধ্য হলেন বলে জানিয়েছেন দেশের অন্যতম সেরা এই মহিলা ব্যাডমিন্টন তারকা। যিনি ২০১৫ সালে বিশ্বের ১ নম্বর স্থানে ছিলেন।
২০২৩ সালে শেষবার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে কোর্টে নেমেছিলেন সাইনা নেহাল। তারপর থেকে তিনি হাঁটুর চোটের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। তাঁর পক্ষে যে আর কোর্টে ফেরা সম্ভব হবে না, এটা বুঝতে পেরেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন। এক পডকাস্টে অবসর প্রসঙ্গে সাইনা বলেন, ‘আমি দু’বছর আগে খেলা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, শরীর আর সেরাটা দিতে পারছে না। তরুণাস্থি সম্পূর্ণরূপে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। আর্থ্রাইটিস আছে। নিজেকে কোর্টে ফেরাতে গেলে ৮ থেকে ৯ ঘন্টা অনুশীলন করতে হত। এখন আমার হাঁটুর যা অবস্থা, এক বা দু ঘন্টার বেশি অনুশীলন করতে পারছি না। তাই আমি ভেবেছিলাম যথেষ্ট হয়েছে। আমার মনে হয়েছিল ঘটা করে অবসর ঘোষণা করার কোনও প্রয়োজন নেই। নিজের শর্তে খেলা শুরু করেছিলাম এবং নিজের শর্তে চলে যাব।’
সাইনার কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০১২ লন্ডন অলিম্পিক। তিনি ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। প্রথম ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা হিসেবে অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জেতেন সাইনা নেহাল। শুধু অলিম্পিক পদকই নয়, অন্যান্য ব্যাডমিন্টন ইভেন্টেও অসংখ্য পদক জিতেছেন। অলিম্পিকসহ সাতটি বড় ইভেন্টে মোট ১৮টি পদক জিতেছেন। বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে দুটি পদক জিতেছেন, যার মধ্যে একটা রুপো ও একটা ব্রোঞ্জ। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে তিনটি ব্রোঞ্জ, উবের কাপে দুটি ব্রোঞ্জ , কমনওয়েলথ গেমসে তিনটি সোনা, একটা রুপো, একটা ব্রোঞ্জসহ মোট পাঁচটি পদক জিতেছেন। এশিয়ান গেমসে দুটি ব্রোঞ্জ পদকও জিতেছেন। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে একটা করে রুপো ও ব্রোঞ্জ জিতেছেন।
আরও পড়ুনঃ প্রতিভার এই অপমৃত্যুর দায় তাহলে কার?
হিসারে জন্মগ্রহণকারী এই শাটলার ২০০৮ সালে জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এবং বেজিং অলিম্পিকের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতি অর্জন করেন। এক বছর পর তিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে BWF সুপার সিরিজ শিরোপা জিতেছিলেন এবং ২০১০ সালের কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জেতেন। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে মহিলাদের সিঙ্গলসে ব্রোঞ্জ জেতেন। ২০১৫ সালে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে পৌঁছন। একই বছর তিনি বিডব্লিউএফ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও রুপো জেতেন। ২০১৭ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ এবং ২০১৮ সালের কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জেতেন।
ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য একাধিক রাষ্ট্রীয় পুরষ্কারও জিতেছেন সাইনা নেহাল। ২০০৯ সালে অর্জুন পুরষ্কার পান। পরের বছর মেজর ধ্যানচাঁদ পুরষ্কারে সম্মানিত হন। ২০১০ সালে তিনি পদ্মশ্রী এবং ২০১৬ সালে পদ্মভূষণে সম্মানিত হন।