দুরন্ত বোলিং করে ইতালিকে বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক জয় এনে দিলেন পিৎজা প্রস্তুতকারক ক্রিশান কালুগামেগে।
কোনও প্রত্যাশা নিয়ে টি২০ বিশ্বকাপে খেলতে আসেনি ফুটবলের দেশ ইতালি। লক্ষ্য একটাই, সম্মানজনক ফল। বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে পারেনি আজুরিরা। স্কটল্যান্ডের কাছে হার। দ্বিতীয় ম্যাচেই অবশ্য চমক। নেপালকে ১০ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস তৈরি করল ইতালি। বিশ্বকাপে প্রথম জয়। ইতালির এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক তিনজন। দুই ভাই জাস্টিন মোসকা ও অ্যান্থনি মোসকা এবং লেগ স্পিনার ক্রিশান কালুগামেগে।
ইংল্যান্ড ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করা নেপাল বৃহস্পতিবার ইতালির বিরুদ্ধে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৩ ওভারে মাত্র ১২৩ রানে গুটিয়ে যায়। ওপেনার কুশল ভুর্তেল মাত্র ৫ রান করে আউট হন। আসিফ শেখ (২০), রোহিত পাউডেল (২৩) এবং দীপেন্দ্র সিং আইরি (১৭), আরিফ শেখের (২৭) সৌজন্যে ১০০ রানের গণ্ডি পার করতে সক্ষম হয় নেপাল। লেগস্পিনার ক্রিশান কালুগামেগে ইতালির প্রথম টি২০ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন। ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রানে ৩ উইকেট তুলে নেন। তিনি ফেরান নেপালের অধিনায়ক রোহিত পাউডেল, দীপেন্দ্র সিং আইরি এবং গুলশান ঝা–কে।
ব্যাট করতে নেমে নেপাল বোলারদের কোনও সুযোগই দেননি ইতালির হয়ে ওপেন করতে নামা দুই ভাই জাস্টিন মোসকা ও অ্যান্থনি মোসকা। ১২.৪ ওভারেই দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। ৪৪ বলে ৬০ রান করে অপরাজিত থাকেন জাস্টিন। মারেন ৫টি ৪ ও ৩টি ৬। অন্যদিকে, ৩২ বলে ৬২ রান করে অপরাজিত থাকেন অ্যান্থনি। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ৩টি ৪ ও ৫টি ৬।
জাস্টিন ও অ্যান্থনি দুরন্ত ব্যাটিং করে দলকে জয় এনে দিলেও দুরন্ত বোলিং করে ভিত গড়ে দিয়েছিলেন লেগস্পিনার ক্রিশান কালুগামেগে। টি২০ বিশ্বকাপে তাঁর সেরা পারফরমেন্স করেছেন এই স্পিনার। নেপালের ব্যাটসম্যানদের পুরোপুরি ফাঁদে ফেলেছিলেন। আশ্চর্যজনক বিষয় হল, এই ইতালিয়ান বোলার সপ্তাহে মাত্র একদিন অনুশীলন করার সুযোগ পান। কারণ, তিনি একটা পিৎজার দোকানে কাজ করেন।
১৯৯১ সালের ১৬ জুন শ্রীলঙ্কার নেগোম্বোর একটা ছোট্ট গ্রামে ক্রিশান কালুগামেগের জন্ম। তিনি অরবিন্দ ডি সিলভা এবং সনৎ জয়সুর্যর ভক্ত ছিলেন। যখন তাঁর বয়স ১৫ বছর, সেই সময় তাঁর বাবা–মা কাজের সন্ধানে ইতালির লুক্কায় চলে আসেন। ইতালিতে ক্রিকেট একেবারেই জনপ্রিয় নয়। আর তিনি যে শহরে থাকেন, সেখানে ক্রিকেটের কোনও প্রচলন নেই। একমাত্র রোমে খেলা হয়। অনুশীলনের জন্য ৭০০ কিমি দূরত্ব অতিক্রম করে লুক্কা থেকে রোমে যেতে হয় কালুগামেগেকে। সপ্তাহে মাত্র একদিন অনুশীলনের সুযোগ পেতেন। লুক্কা থেকে ভোরে রোমের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। অনুশীলন করে আবার পরের দিন ফিরে এসে কাজে যোগ দেন। ক্রিশান কালুগামেগে লুক্কার একটা পিৎজার দোকানে পিৎজা তৈরির কাজ করেন। ক্রিকেটের কারণে তাঁকে বেশ কয়েকটা চাকরি ছেড়ে দিতে হয়েছিল।
ইতালি টি২০ বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনের পর ক্রিশান কালুগামেগে অবশ্য আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। টি ২০ বিশ্বকাপের আগে নিজের দেশ শ্রীলঙ্কায় ফিরে এসেছিলেন। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দলের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে তৈরি করেন। শ্রীলঙ্কা দলের নেট বোলার হিসেবে কাজ করেন। দাসুন শনাকা, কুশল মেন্ডিসদের সঙ্গে নেটে সময় কাটিয়ে নিজের বোলিং অনেকটাই উন্নত করেন কালুগামেগে। তাঁর সেই কঠোর পরিশ্রম অবশেষে ফল পেল। তিনি নেপালের অধিনায়ক রোহিত পাউডেল, দীপেন্দ্র সিং আইরি এবং গুলজান ঝা–র গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। গুরুত্বপূর্ণ তাঁর এই তিন উইকেটই ইতালির ঐতিহাসিক জয়ের ভিত গড়ে দেয়।