তখনও দেশ স্বাধীন হয়নি। অবিভক্ত বাংলার করিমপুরে ১৯২৫ সালে পথচলা শুরু হয়েছিল গভঃ স্পনসরড ফ্রি প্রাইমারি স্কুল স্কুলের। যদিও এর পোষাকী নাম জিএসএফপি স্কুল। দেখতে দেখতে কেটে গেল ১০০টা বছর। গৌরবময় পথচলার শতবর্ষ। আর এই শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে অন্য আবহ জিএসএফপি স্কুলের। তিনদিন ধরে জাঁকজমক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শতবর্ষ উদযাপন।
করিমপুর শহরের মূল বাজারের ওপর অবস্থিত জিএসএফপি স্কুল। স্কুলের পাশেই করিমপুর সার্কেলের অবর পরিদর্শকের অফিস। দেওয়াল লাগোয়া করিমপুর জগন্নাথ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। করিমপুর অঞ্চলের অন্যান্য স্কুলের মধ্যে এই স্কুলে প্রথম থেকেই সুনামের সঙ্গে পঠনপাঠন হয়ে আসছে। স্কুলের অনেক কৃতী রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে দেশ–বিদেশে প্রতিষ্ঠিত।
জন্মলগ্নে স্কুলের পাকা কোনও কোনও স্থায়ী ঘর ছিল না। করিমপুর থানার পুরনো অফিস ঘরের একপাশে চালাঘরে ছাত্র–ছাত্রীদের নিয়ে স্কুল চালাতেন প্রয়াত শ্রীশ চন্দ্র বিশ্বাস। পুরনো দিনের সেই কথা স্মৃতির ঝাঁপি খুলে তুলে নিয়ে এসে এক সময়ের ভারপ্রাপ্ত প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক গণপতি মণ্ডল বলছিলেন, ‘প্রথম অবস্থায় করিমপুর থানার পুরনো অফিস ঘরের একপাশে চালাঘরে শ্রীশ চন্দ্র বিশ্বাস মহাশয় পাঠদান করতেন। পরে করিমপুর জগন্নাথ হাই স্কুলের একটা ঘরে সকালে প্রাথমিক স্কুলের ক্লাস হত। কিছুদিন শ্রেণীকক্ষের অভাবে কারও বাড়ির ঘর কিংবা বারান্দায় অথবা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস কার্যালয়ের ঘরেও ক্লাস নেওয়া হত। এমনকি গাছ তলাতেও ছাত্র–ছাত্রীদের পড়ানো হত।’
এভাবেই এগিয়ে চলছিল জিএসএফপি স্কুলের পঠনপাঠন। উনিশ শতকের শেষদিকে বিদ্যালয়ের জন্য স্থায়ী ভবনের প্রয়োজন দেখা দেয়। স্থানীয় মানুষ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আর্থিক সাহায্যে একটা বিশাল গর্ত ভরাট করে দালান তৈরি করা হয়। এরপর ১৯৭১ সালে এই দালানেই চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পঠনপাঠন শুরু হয়। এই সময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন প্রয়াত কালীশঙ্কর বিশ্বাস। ধীরে ধীরে ছাত্র–ছাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। প্রয়োজন হয়ে পড়ে আরও ঘরের। ঘর তৈরি করতে গেলে তো টাকার প্রয়োজন। আসবে কীভাবে? যাত্রাপালা ও বিচিত্রানুষ্ঠানের আয়োজন করতে থাকেন শিক্ষক–শিক্ষিকা ও করিমপুরের ব্যবসায়ীরা। একবার তো মহানায়ক উত্তম কুমারও হাজির হয়েছিলেন। এভাবেই অর্থের জোগান। বাড়ল শ্রেণীকক্ষও।
আরও পড়ুনঃ নজিরবিহীন ঘটনা রাজ্যে, আদালতের নির্দেশে খারিজ মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ, বাতিল বিধানসভার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তও
আরও পড়ুনঃ প্রতিদিনই বদল বাইশ গজের, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে প্রথম একাদশ নিয়ে ধোঁয়াশায় ভারত
বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ে। বিশেষ নজর দেয় প্রাথমিক শিক্ষার দিকে। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষা খাতে বিশেষ তহবিল গঠন করে। ‘সর্বশিক্ষা মিশন’, ‘মিড–ডে মিল’, প্রভৃতি কর্মসূচী গ্রহণের ফলে পরবর্তী কয়েক বছর বিদ্যালয়েরর কাঠামোগত এবং শিক্ষাগত ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি ঘটে। এই বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে অনেকেই কৃতী হয়েছেন, জীবনে প্রতিষ্ঠিত।
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে ১০ নভেম্বর শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর প্রদীপ প্রজ্জ্বলন। এছাড়াও উদ্বোধনী দিনে ছিল নৃত্য, বিশেষ অতিথিদের বরণ, পুরুলিয়ার ছৌ নাচ। তিনদিন ধরে এই শতবর্ষ উদযাপনে প্রাক্তনীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেন। আর্থিক সাহায্য ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন। এছাড়াও ছিল পুতুল নাচ, সহজ পাঠ, আলোচনাচক্র, কুইজ প্রতিযোগিতা। স্কুলের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন
শ্রেয়া ভট্টাচার্য, রাঘব ভট্টাচার্য। নূর আলম ফকিরের লোকগীতি অনুষ্ঠানে অন্যমাত্রা এনে দিয়েছিল। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ মহুয়া মিত্র, মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ আবু তাহের খান, করিমপুরের বিধায়ক বিমলেন্দু সিংহ রায়, তেহট্ট মহকুমা শাসক অভিজিৎ রায় প্রমুখ।